জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় পুলিশ কর্তৃক শিশুকে বল প্রয়োগ করা হয়নি 

সম্প্রতি, জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় শিশুর ওপর পুলিশের বল প্রয়োগের দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

একই দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের পোস্ট দেখুন এখানে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় পুলিশ কর্তৃক শিশুকে বল প্রয়োগ করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের জুলাইতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা সমাবেশে নিরাপত্তা জনিত কারণে এক শিশুকে বল প্রয়োগের ঘটনার ভিডিওকে সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেশীয় মূলধারার ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম ‘ATN News’ এর ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই “চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুর উপর পুলিশের বল প্রয়োগের ভিডিও ভাইরাল” শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে দেশিয় মূলধারার অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজের ওয়েবসাইটে একই তারিখে অর্থাৎ গত বছরের ১৮ জুলাই ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জে ওসি-এসআইয়ের শিশু বল প্রয়োগের ভিডিও ভাইরাল’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনটির ফিচারে সংযুক্ত ছবির সাথেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনের বিবরণী থেকে জানা যায়, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মতিউর রহমান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাইয়ের শিশুকে বল প্রয়োগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ভাইরাল হয়েছে। ২৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, এক শিশুর হাত ধরে আছেন সদর থানার ওসি মতিউর রহমান। শিশুটির গায়ে থাকা টি-শার্টের গলার অংশ ধরে মারধর করছেন সদর থানার এসআই আব্দুল হাই। এক পর্যায়ে মাথা ও চুল ধরে পেছনের দিকে বল প্রয়োগ করছেন তিনি। পুরো ভিডিওতেই শিশুটি কান্নারত অবস্থায় ছিল। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি শিশুটির। ওসি এসআইসহ ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য মিলে শিশুটিকে নির্যাতন করেন।

ঐ সময়ে সদর থানার ওসি মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাটি গত ৬ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা দিনের ঘটনা এটি। ওই শিশু এনসিপির নেতৃবৃন্দের কাছাকাছি চলে যায়। জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার কাছে পাওয়া যায় ‘ড্যান্ডি’ নামের মাদক। তবে পুলিশের বল প্রয়োগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।’

এছাড়া, একই বিষয়ে দেশিয় মূলধারার ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম ‘Independent Television’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনেও আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে একই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, পুলিশ কর্তৃক শিশুকে বল প্রয়োগের ঘটনার এই ভিডিওটির সাথে ওই শিশুর জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য, একই ভিডিও প্রচারে গত বছরের জুলাইতে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ কর্তৃক শিশুকে বল প্রয়োগের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছিল। সেসময়ে বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, ২০২৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা সমাবেশে নিরাপত্তা জনিত কারণে এক শিশুকে পুলিশ কর্তৃক বল প্রয়োগের ঘটনার ভিডিওকে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় শিশুর ওপর পুলিশের বল প্রয়োগের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: