সম্প্রতি, ‘হাদির সহযোদ্ধা জাবেরকে অনেকেই চিনেন না। ফ্যসিস্ট প্রশাসন যেই কন্ঠরোধ করতে চেয়েছিলো। তা হাজার গুন বেশি শক্তি নিয়ে আবারও ফিরে এসেছে’ শীর্ষক ক্যাপশনে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
দাবি করা হচ্ছে– গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ কর্তৃক যে আন্দোলনকারীকে মুখ চেপে ধরা হয়েছিল তিনি এবং ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একই ব্যক্তি।

ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবির ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশ কর্তৃক এক ব্যক্তির মুখ চেপে ধরার ছবিতে থাকা ব্যক্তি আর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একই ব্যক্তি নন বরং, গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ কর্তৃক যে ব্যক্তির মুখে চেপে ধরেছিল তার নাম নাহিদুল ইসলাম।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ‘‘একটা কথা বলবি না, কথা বললেই মেরে ফেলব’’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে থাকা ছবির সাথে আলোচিত ছবির মিল রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদনে পুলিশ কর্তৃক মুখ চেপে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম নাহিদুল ইসলাম বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সে বছরের ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে রাস্তায় নামলে হয়রানির শিকার হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ঢাকার নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম।
নাহিদুল জানান, সেদিন শতাধিক মানুষের র্যালি নিয়ে এগোচ্ছিলেন তারা। হাইকোর্টের ঈদগাহ গেটের সামনে এলে পুলিশ তাঁদের পথরোধ করে। কয়েকজনকে আটকও করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধীরে ধীরে মৎস্য ভবনের কাছে নিয়ে আসে পুলিশ। তখনো স্লোগান দিচ্ছিলেন নাহিদুল। এ সময় দুজন পুলিশ সদস্য নাহিদুলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন, গালাগাল করতে থাকেন। একজন পুলিশ নাহিদুলের মুখও চেপে ধরেন।
ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে গত বছরের ১৯ আগস্ট ‘শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরা সেই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই ছবি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ৩১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে ঢাকার নিউ মডেল ডিগ্রী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলামের মুখ চেপে ধরেছিলেন পরিদর্শক আরশাদ হোসেন। যার প্রেক্ষিতে আরশাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এরপর বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার। তিনি জানান, পুলিশ কর্তৃক মুখে চেপে রাখা ব্যক্তিটি তিনি নন।
সুতরাং, গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ কর্তৃক মুখ চেপে হয়রানির শিকার হওয়া নাহিদুল ইসলামকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo- ‘একটা কথা বলবি না, কথা বললেই মেরে ফেলব’
- Ittefaq- শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরা সেই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
- Abdullah Al Jaber’s Statement


