গত ২৫ ডিসেম্বর গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ৫ জানুয়ারি আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহরিমা জান্নাত সুরভী, সাংবাদিক নাইমুর রহমান (দুর্জয়) এবং এক পুলিশ সদস্যের ছবি প্রচার করে একটি দাবি করা হয়েছে।
প্রচারিত দাবিতে বলা হয়, উক্ত সাংবাদিক সুরভীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য সুরভীর বয়স বাড়িয়ে দেখিয়ে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও একই পুলিশ সদস্যের ছবি ব্যবহার করে অন্য একটি পোস্টে দাবি করা হয়, জুলাই কন্যা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা তথ্য সংযুক্ত করে মামলা তৈরি করেছেন এই পুলিশ সদস্য। তার নাম আকবর।’

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিতে থাকা পুলিশ সদস্যের নাম এস এম আকবর। তবে তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সঙ্গে ওই পুলিশ সদস্যের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রকৃতপক্ষে, উক্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হলেন এসআই মো. ওমর ফারুক। এছাড়া, সুরভী নিজেও আদালতে রিমান্ড চাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হিসেবে পুলিশ সদস্য ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পুলিশ সদস্যের ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘এস এম আকবর’ নামক এক ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০২৪ সালের ২৫ মে তারিখে উক্ত ছবিটি প্রোফাইল ছবি হিসেবে আপলোড করতে দেখা যায়। ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এই ছবিটি ‘এস এম আকবর’ নামের উক্ত পুলিশ সদস্যের।

পরবর্তীতে সুরভীর বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ‘পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় তাহরিমার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী নাইমুর রহমান (দুর্জয়) নামের এক সাংবাদিক। এ মামলায় গত ২৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুরের টেকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।..’
এছাড়াও, মূলধারার গণমাধ্যম কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে গত ৫ জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সুরভীর বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার অন্তর্গত মৌচাক পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওমর ফারুক। গত ৫ জানুয়ারি প্রিজন ভ্যানে ওঠার আগে গণমাধ্যমের সামনে মাকে ডেকে সুরভী বলেন, ‘মা…ওই ফারুক আছে না? ফারুক রিমান্ডে চাইছে ওকে টাকা দিই নাই এ জন্য।’ এছাড়াও, অভিযোগ উঠেছে, সুরভীর বয়স ১৭ বছর হলেও ২১ বছর দেখিয়ে তাকে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। তবে সুরভীর অভিযোগ গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন এসআই ওমর ফারুক।
অনুসন্ধানে কোথাও সুরভীর বিরুদ্ধে মামলায় পুলিশ সদস্য এস এম আকবরের নামের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে এস এম আকবরের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণে গত ৬ জানুয়ারিতে আলোচিত দাবির বিষয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে এস এম আকবর বলেন, ‘..পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, এই ছবিটি আমার। উক্ত ঘটনার সাথে আমি কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নই। আমি ঢাকা কিংবা গাজীপুর কর্মরত নই, আমি চট্টগ্রামে কর্মরত। উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমি নই, রিমান্ড চাওয়ার সাথেও আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।..’
সুতরাং, সুরভীর বিরুদ্ধে করা মামলায় এস এম আকবর জড়িত বা সম্পৃক্ত বলে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- এস এম আকবর – Facebook Post
- Prothom Alo – জামিনে কারামুক্ত চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার ‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমা
- Kaler Kantho – ‘মা…ফারুক রিমান্ডে চাইছে ওকে টাকা দিই নাই এ জন্য’
- এস এম আকবর – Facebook Post
- Rumor Scanner’s analysis


