বন্যা থেকে বাঁচতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর গাছে ওঠা নয়, এটি টাঙ্গুয়ার হাওরের ভ্রমণ ভিডিও

সম্প্রতি, চট্টগ্রাম বিভাগে চলমান বন্যাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নারীর একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। ভিডিওতে ওই নারীকে পানির মাঝে একটি গাছের ডালে অবস্থান করতে দেখা যায়। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ভিডিওতে দেখতে পাওয়া ওই নারী ৯ মাসের গর্ভবতী। বন্যায় গর্ভের সন্তানকে বাঁচাতে তিনি গাছে উঠে আশ্রয় নিয়েছেন।

গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত এমন ভিডিও পোস্ট দেখুন চ্যানেল ওয়ান, এটিএন বাংলা।
ফেসবুকে প্রচারিত অন্যান্য পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত এই ভিডিওটি বন্যায় জীবন বাঁচাতে কোনো গর্ভবতী নারীর গাছে ওঠার ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের সময় ধারণ করা এক নারীর ব্যক্তিগত ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘অঞ্জনার জীবনের কথা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই একই ভিডিওর একটি বর্ধিত সংস্করণ প্রচারিত হতে দেখা যায়। ভিডিওটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, এটি টাঙ্গুয়ার হাওরের ভিডিও। ভিডিওটিতেও ওই মহিলাকে গাছে উঠায় আতঙ্কের পরিবর্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি আশেপাশে লাউড স্পিকারে গান বাজতেও শোনা যায়। যা থেকে ধারণা করা যায়, এটি বন্যায় আটকে পড়া কোনো বিপদগ্রস্ত নারীর ভিডিও ফুটেজ নয়।

পেজটি পর্যালোচনা করে সেসময় ওই গাছে ধারণ করা তার একাধিক ছবি ও ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়। পোস্টগুলোর ক্যাপশনে তিনি ছবি ও ভিডিওগুলো টাঙ্গুয়ার হাওরে ধারণ করেছেন এমনটি উল্লেখ পাওয়া যায়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ভিডিওটি উক্ত পেজটি পরিচালনাকারী নারীর টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সময় ধারণ করা। এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
পরবর্তীতে ‘Life of Anjana’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলেও ২০২৪ সালে একই গাছে ধারণ করা ওই নারীর ধারণ করা আরেকটি ভিডিওটি পোস্ট করে অঞ্জনা নিজেই ভাইরাল দাবিটি নাকচ করে বলেন, ‘গর্ভে ৯ মাসের বাচ্চা তবু্ও জীবন বাঁচানোর জন্য গাছে উঠেছেন একজন মা 😭😭এসব ক্যাপশন দিয়ে যারা আমার ভিডিও আপলোড করেছেন তারা ভুয়া….ফেক পেজ ও আইডি তাদের সবাই সাবধান…’
এছাড়া, গত ১২ জুলাই অঞ্জনার পরিচালিত ‘জীবনের গল্প 2’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকেও একই ভিডিও প্রকাশ করে পুনরায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “গর্ভে ৯ মাসের বাচ্চা,তবুও জীবন বাঁচানোর জন্য গাছে উঠেছেন একজন মা….এটা মিথ্যা তথ্য, এটা টাঙ্গুয়ার হাওরের ভিডিও।”
উল্লেখ্য, একই ভিডিওটি শুধু চলমান বন্যার সময়ই নয়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও একই দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়। সেসময় প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
সুতরাং, গর্ভে ৯ মাসের সন্তান নিয়ে বন্যা থেকে বাঁচতে মায়ের গাছে ওঠার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

