ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে গুলিতে নিহত তারিক সাইফ মামুন সাংবাদিক নন 

অতি সম্প্রতি, “ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে, জঙ্গি হামলায় প্রথম আলোর শীর্ষ সাংবাদিক মামুনুর রহমান নিহত। জঙ্গি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করার কারণেই উনাকে হত্যা করা হয়েছে।” শীর্ষক ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবির ফেসবুক ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে।

ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটির সাথে সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলার কোনো সম্পর্ক নেই এবং নিহত ব্যক্তি সাংবাদিকও নয় বরং, ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে গুলিতে নিহত তারিক সাইফ মামুন নামের এই ব্যক্তি একজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ফেসবুকে Nilima Nilima নামের একটি প্রোফাইলে ১০ নভেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ১০ নভেম্বর সকাল ১১ টায় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট দিয়ে এক ব্যাক্তি প্রবেশ করছিল। হঠাৎ সাদা পোশাক পরিহিত দু’জন লোক এসে ঐ লোকটির উপরে ৫টি গুলি চালায়। লোকটা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। মৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে গুলিতে নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানা গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র প্রথম আলোকে বলছে, নিহত ব্যক্তির নাম তারিক সাইফ মামুন (৫৫), তিনি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’।

পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তি একসময় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন, তবে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তারা ধারণা করছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকজন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। এর আগেও ইমনের লোকজন মামুনকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।

প্রথম আলোর এই প্রতিবেদনে গণমাধ্যমটির কোনো সাংবাদিক এই ঘটনায় নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য মেলেনি।

অর্থাৎ, এটি কোনো জঙ্গি হামলা নয় এবং এই ঘটনায় প্রথম আলোর কোনো সাংবাদিকও মারা যাননি।

পরবর্তী অনুসন্ধানে অন্যান্য গণমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর বরাতেও সম্প্রতি কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনায় কোনো সাংবাদিক নিহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে তারিক সাইফ মামুন নামের এক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ মরদেহ পড়ে থাকার ভিডিওকে জঙ্গি হামলায় প্রথম আলোর সাংবাদিক নিহত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: