প্রথম আলোর অফিসের সামনের ভিন্ন ব্যক্তিকে মোহাম্মদ ইশরাক দাবি করে অপপ্রচার

সম্প্রতি, প্রথম আলো অফিসে হামলার পর ফেসবুককে কিছু পোস্টে একটি ভিডিও “ভিডিও র লাস্ট লাথি শিবির নেতা ইশরাকের! প্রথম আলো অফিসে হা/ম/লা করার সময়” শিরোনামে প্রচার করা হয়েছে।

পোস্টগুলোতে ওই ভিডিওর শেষে লাথি দেওয়া ব্যক্তিকে লেখক ও এক্টিভিস্ট মোহাম্মদ ইশরাক দাবি করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট এখানে, এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথম আলো ভবনের শাটারে আলোচিত ভিডিওতে শেষ লাথি দেয়া ব্যক্তি এক্টিভিস্ট মোহাম্মদ ইশরাক নন বরং তিনি ভিন্ন কেউ।

প্রচারিত ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধানে People Voice নামের একটি ফেসবুক পেজে ওই ভিডিওর মূল আপলোডটি (আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়। পেজটিতে “ভারতীয় আধিপত্যবাদী দোসর আখ্যা দিয়ে ভাঙ্গা হচ্ছে প্রথম আলো” শিরোনামে গত ১৯ ডিসেম্বর রাত ১২:০৪ মিনিটে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।

ভিডিওটি কয়েকবার প্লে করে, স্লো মুডে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে ভিডিওর ব্যক্তির সাথে মোহাম্মদ ইশরাকের অমিল প্রতীয়মান হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অমিল পর্যবেক্ষন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে অধিকতর অনুসন্ধান করা হয়।

ওই দিনের ওই ব্যক্তির আরো ফুটেজ অনুসন্ধান করতে গিয়ে Breakingnews.com নামক ফেসবুক পেজের একটি লাইভ ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায় এবং সেখানে তার বক্তব্য শোনা যায়। বক্তব্যে তাকে “জীবন দিতে আরো কত জন প্রস্তুত আছে, গুলি কর খান/কি মা/গীর পোলারা, গুলি কর..” বলতে শোনা যায়।

বক্তব্য দেয়ার সময়ই ভিডিওতে তার চেহারা আরো অনেকটা স্পষ্ট ভাবে দেখা যায় এবং মোহাম্মদ ইশরাকের চেহারার সাথে স্পষ্ট অমিল দেখা যায়। মোহাম্মদ ইশরাকের বিভিন্ন ভিডিও বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করে ওই ব্যক্তির কন্ঠের সাথেও মোহাম্মদ ইশরাকের কন্ঠের অমিল পরিলক্ষিত হয়।

আরো অনুসন্ধানে, NPB World এর ফেসবুকে পেজের রাত ১১:৫৭ মিনিটের একটি লাইভ খুঁজে পাওয়া যায়। লাইভে ওই ব্যক্তিকে সাদা কিছু একটা হাতে নিয়ে লাইভের ৪ মিনিট ৩৪তম সেকেন্ড অর্থাৎ রাত ১২:০১ মিনিটে ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়।

অপরদিকে মোহাম্মদ ইশরাকের ফেসবুক আইডিতে “৩২ অভিমুখে ডাকসু নেতারা” শিরোনামে একটি লাইভ খুঁজে পাওয়া যায়, ওই লাইভে তার ভয়েসও শুনতে পাওয়া যায়। ধানমন্ডি ৩২ এর দিকে যাওয়ার সময় করা এই লাইভটির সময়ও হচ্ছে রাত ১২:০১ মিনিট। অর্থাৎ, এর মাধ্যমে দুজন যে দুই জায়গায় অবস্থান করা ভিন্ন ব্যক্তি এবং ওই ব্যক্তি যে মোহাম্মদ ইশরাক নন সে বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হওয়া যায়।

Momee Ansary নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে সেদিন রাত ১:১৯ মিনিটে ধানমন্ডিতে তোলা মোহাম্মদ ইশরাকের একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ওই ছবিতে মোহাম্মদ ইশরাককে সেদিন শার্ট ও শার্টের ওপর জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। অপরদিকে, ওই ব্যক্তির গায়ে কোনো জ্যাকেট নেই। তার পরিহিত পোশাকটি শার্ট নয় বরং একটি শীতের পোশাক। যার বুকের দুদিকে বোতাম রয়েছে। মোহাম্মদ ইশরাকের ভিন্ন ছবিতে ওই শার্ট পর্যবেক্ষন করে সেখানে এমন বোতাম দেখা যায়নি। এছাড়াও, মোহাম্মদ ইশরাকের শার্টের সাথে ওই ব্যক্তির পরিহিত শীতের পোশাকের রঙ এবং কলারের পার্থক্য রয়েছে। দুজনের ভুড়ির মধ্যেও দৃশ্যমান পার্থক্য রয়েছে। 

অর্থাৎ, প্রথম আলোর অফিসে হামলার দিনে তাদের শাটারে লাথি দেয়া যে ব্যক্তিকে লেখক ও এক্টিভিস্ট মোহাম্মদ ইশরাক দাবি করা হয়েছে, সেই ব্যক্তি মুহাম্মদ ইশরাক নন বরং ভিন্ন কেউ।

সুতরাং, প্রথম আলোর অফিসের শাটারে লাথি দেওয়া ব্যক্তিকে মোহাম্মদ ইশরাক দাবির বিষয়টি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: