বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে প্রথম আলোর নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত

সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) জড়িয়ে ‘কুষ্টিয়ার হরিপুর ইউনিয়নের বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রথম আলো কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথম আলো কর্তৃক প্রকাশিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর লোগো রয়েছে। এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, প্রথম আলোর ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে গত ১লা ফেব্রুয়ারি ‘৮০ বছরের একান্নবর্তী পরিবার, সদস্যসংখ্যা এখন ৫০’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল লক্ষ্য করা যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রথম আলোর লোগো এবং ছবির মিল রয়েছে। তবে, উভয়ের ফটোকার্ডে ব্যবহৃত শিরোনামের ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়াও প্রথম আলোর ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল রয়েছে।

অর্থাৎ, প্রথম আলোর এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

মূল ফটোকার্ড সংবলিত প্রথম আলোর ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একসময় একান্নবর্তী পরিবারের সংখ্যা বেশি থাকলেও এখন আর তেমন দেখা যায় না। নানা কারণে পরিবারগুলো ছোট হয়ে গেছে অথবা যাচ্ছে। এই সংকটের মধ্যেও মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বিনন্দপুর গ্রামে একটি একান্নবর্তী পরিবার প্রায় আট দশক ধরে টিকে আছে। ওই পরিবারের সদস্যসংখ্যা এখন ৫০।এক হাঁড়িতে সবার রান্না চলে। দীর্ঘদিন ধরে সবাই মিলেমিশে চলছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, শুধু বিনন্দপুর নয়; আশপাশের এলাকায়ও এ রকম পরিবার আর নেই। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন…।

সুতরাং, ‘কুষ্টিয়ায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার হয়েছে শীর্ষক দাবিতে প্রথম আলোর নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: