গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত নারী প্রয়াসের আয়োজিত মানববন্ধনে হাদিকে নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন কেয়ারি লিমিটেডের ডিরেক্টর ও সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ রাইহানা সুলতানা নাসিম।
এই প্রেক্ষাপটে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাইহানা সুলতানা নাসিমের একটি ছবির সঙ্গে শাড়ি পরা আরেকটি ছবি জুড়ে দিয়ে সেটিকেও তার ছবি দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘তিনার নাম রাইহানা সুলতানা নাসিম। চাচা হলো যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী। চাচাতো ভাই গুম নাটকের নায়ক আরমান। ব্যাপক পর্দানশীল মহিলা পর্দা-টর্দা লাগিয়ে সেরাম বক্তৃতা দেয় কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিক আপলোড দেয়ায় পুরাই টিং টিং,,, ডিস্যা।’

এ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
একই অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত দাবি দেখুন: এক্স, ইন্সটাগ্রাম।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শাড়ি পরা আলোচিত ছবিটি রাইহানা সুলতানা নাসিমের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ছবিটি চারু শর্মা নামের একজন ভারতীয় নারীর।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Charu Sharma’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি পোস্টে হুবহু একই ছবি পাওয়া যায়।

অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করে ওই একই নারীর আরও একাধিক ছবি (১, ২, ৩) পাওয়া যায়। ইনস্টাগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি ২০২১ সালে খোলা হয় এবং ভারত থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

অর্থাৎ, এটি একটি ভারতীয় নারীর ফেসবুক প্রোফাইল।
অন্যদিকে, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, রাইহানা সুলতানা নাসিমের চাচা মীর কাশেম আলী এবং তার বাবা ডা. মীর নাসিম আলী। সে হিসেবে মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) তার চাচাতো ভাই।
সুতরাং, একজন ভারতীয় নারীর ছবি রাইহানা সুলতানা নাসিমের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Charu Sharma: Instagram Post


