গত ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন মা শাহিনুর বেগম এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, ইকরা বেগম ও সিপা আক্তার। এরই প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে নানা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং এসব সংবাদে দাবি করা হয় যে, ‘নিহত বড় মেয়ে সায়মা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী’।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ প্রতিবেদন: সময় টিভি, আরটিভি, বাংলাভিশন, ইনডিপেনডেন্ট টিভি, এখন টিভি, চ্যানেল আই, ডিবিসি নিউজ, বাংলা টিভি, নাগরিক টিভি, এশিয়ান টিভি অনলাইন, দ্য ডেইলি স্টার, যুগান্তর, সমকাল, কালবেলা (ফেসবুক), বাংলাদেশ প্রতিদিন, যায়যায়দিন, আজকের পত্রিকা, ইত্তেফাক, নয়া দিগন্ত, মানবজমিন, নিউ এজ, ডেইলি সান, ডেইলি অবজারভার, নিউ নেশন, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, মানবকণ্ঠ, জনবাণী, সময়ের আলো, রূপালী বাংলাদেশ, ঠিকানা নিউজ, বিডিনিউজ২৪, জাগোনিউজ২৪, বাংলা ট্রিবিউন, ইউএনবি, ভিউজ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ টাইমস, বাংলাদেশ জার্নাল, ঢাকা মেইল, সারাবাংলা, ঢাকা টাইমস, সময়ের কণ্ঠস্বর, ভোরের কাগজ, অর্থসূচক, ভোরের পাতা, ভোরের ডাক, একুশে সংবাদ, দ্য ঢাকা ডায়েরী, বার্তা২৪, টাইমস অফ বাংলাদেশ, রাইজিং বিডি, নাগরিক প্রতিদিন, এনপিবি নিউজ, জুম বাংলা, টাইমস টুডে, বাংলাদেশ বুলেটিন, রেডিও টুডে, সংবাদ, জাস্ট নিউজ বিডি, ঢাকা ওয়াচ২৪, সানবিডি২৪, প্রতিদিনের কাগজ, সোনালী নিউজ, ভোরের আকাশ, প্রবাস জার্নাল, ফিনান্সিয়াল পোস্ট, সকালের সময়, বাণিজ্য প্রতিদিন, শিক্ষা সংবাদ, ডুয়া নিউজ, আজকালের খবর, আপন দেশ, আমার বাংলাদেশ,খুলনা গেজেট, বাংলা পোস্ট, খবর৭১, সকালের খবর২৪, দিগন্তবাংলা২৪, ইউএস বাংলা২৪, এফএনএস২৪, অগ্রযাত্রা প্রতিদিন, দৈনিক সময়, দ্যা জেনারেশন টুডে, গণবার্তা, প্যাসেঞ্জার ভয়েস, পপুলার বিডি নিউজ ডটকম, সংবাদ বেলা, জাগ্রত বাংলাদেশ, এদিন, বহুমাত্রিক, সানশাইন, সরেজমিন, দিনাজপুর টিভি, কুমিল্লা পোস্ট, পলিডিকোড।
এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর হত্যাকান্ডে নিহত সায়মা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী হিসেবে এইচএসসি পাস করেন, তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রহিম এর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘..আমরা লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্র-ছাত্রী কল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিহত সায়মার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছি যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না।’
অনুসন্ধানে রিউমর স্ক্যানার নিহত সায়মা আক্তারের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুঁজে পায়। অ্যাকাউন্টের শিক্ষার অংশ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সায়মা আক্তার তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের নাম উল্লেখ করেছেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরও উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও, অনুসন্ধানে লক্ষ্মীপুর ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘Lakshmipur News 24.net’ এর ফেসবুক পেজে গত ২৫ জুনে এ বিষয়ে প্রচারিত এক পোস্টে বলা হয়, ‘রায়পুরে মা- মেয়েদের হ/ত্যা, নি-হ’ত সায়মা ঢাবি শিক্ষার্থী নয়। বর্তমানে বিভিন্ন মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছেন। তিনি ঢাকা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালে কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করছেন নিহতের ভাই।’
পাশাপাশি, অনুসন্ধানে সায়মা আক্তারের আদমজীর আইডি কার্ড পাওয়া যায়। আইডি কার্ডেও দেখা যায়, সায়মা আক্তার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরবর্তীতে রিউমর স্ক্যানার রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়ার সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে। তিনিও নিশ্চিত করেন সায়মা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। সায়মা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।
সুতরাং, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর হত্যাকান্ডে নিহত সায়মা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন শীর্ষক দাবিটি বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Abdur Rahim – Facebook Post
- Sayma Akter – Facebook Account
- Lakshmipur News 24.Net – Facebook Post
- Statement of Shahin Mia, OC Raipur Police Station, Lakshmipur


