সম্প্রতি দেশের নানা জায়গায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই অনলাইনে এক নারীর ছবি সংযুক্ত করে দাবি প্রচার করা হয়েছে, ‘রাজশাহীতে বন্যায় পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীর আ-ত্ম-হ-ত্যা’।
এরূপ দাবিতে সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট : ফ্রিডম বাংলা নিউজ।
গণমাধ্যম ছাড়া ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট Faceless Democracy – মুখহীন গণতন্ত্র (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহীর দুর্গাপুরে এইচএসসি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে দিশা রানী মহন্ত নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করার দাবি সঠিক হলেও এর সাথে বন্যার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। মূলত নিহতের আত্মীয়ের মতে, গত বছর দিশা আইসিটি বিষয়ে ফেল করেন। ফেল করার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন; এ বছর আবার পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়াও, রাজশাহীতে সম্প্রতি বন্যা হয়নি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সংবাদমাধ্যম ‘রূপালী বাংলাদেশ’ এর ওয়েবসাইটে গত ১২ জুলাইয়ে ‘এইচএসসি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় প্রাণ দিলেন তরুণী’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে আলোচিত নারীর ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষা প্রত্যাশা মতো না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের গুনাজিপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে নিজের কক্ষে সিলিংয়ের আড়ার সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি। নিহত তরুণীর নাম দিশা রানী মহন্ত।.. নিহতের স্বজন প্রশান্ত কুমার জানান, গত বছর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর থেকেই দিশা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। চলতি বছর পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিলেও পরীক্ষা ভালো না হওয়ায় তিনি আরও হতাশ হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, এই মানসিক চাপ থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।’
এছাড়াও, অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘যুগান্তর’ এর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে গত ১২ জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়। অনুসন্ধানে আত্মহত্যার সাথে বন্যার কোনো সম্পর্ক নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে সম্প্রতি রাজশাহীতে বন্যা পরিস্থিতির বিষয়ে অনুসন্ধানে রাজশাহীতে বন্যা হওয়ার বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’ এ গত ১৬ জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর শহর রক্ষা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হুরায়রার বরাতে জানানো হয়, ‘রাজশাহীতে পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। সর্বশেষ পরিমাপ অনুযায়ী পানি এখনও বিপৎসীমার প্রায় ৬ দশমিক ৯৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্যার কোনও আশঙ্কা নেই।’ অর্থাৎ, আত্মহত্যাকালীন সময়ে রাজশাহীতে বন্যা হয়নি।
সুতরাং, রাজশাহীতে বন্যায় পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় দিশা মহন্ত নামের শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন শীর্ষক দাবি বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Rupali Bangladesh – এইচএসসি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় প্রাণ দিলেন তরুণী
- Jugantor – এইচএসসি পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় তরুণীর আত্মহত্যা
- Bangla Tribune – বাড়ছে পদ্মার পানি, রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা


