ছাত্রলীগ করায় রাজশাহীতে যুবককে গাছের সাথে বেঁধে মারধরের দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, রাজশাহীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গাছের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। ভিডিওটিতে দুইজন যুবককে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় থাকা অপর আরেক যুবককে লাঠি পেটা করতে দেখা যায়। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওতে দেখতে পাওয়া নির্যাতনের শিকার যুবককে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মারধর করার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, চুরির অভিযোগে যুবককে মারধরের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে রাজশাহীর স্থানীয় কমিউনিটি রেডিও স্টেশন বা গণমাধ্যম Radio Padma-এর ফেসবুক পেজে একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। ভিডিওর শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী ‍যুবকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধার করা হয়।

এছাড়াও পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে তুলে ধরা বিস্তারিত তথ্য থেকে জানা যায়, ঘটনাটি গত ১০ এপ্রিল রাজশাহী মহানগরীর কাজলা এলাকায় ঘটে। ভুক্তভোগীর নাম তুষার। এছাড়াও স্থানীয়দের বরাতে উল্লেখ করা হয়, তিনি ওই এলাকার চিহ্নিত চোর।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আলোচিত এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় শামীম (৫৫), হৃদয় (২২), আশিক (২২), মুহিন (১৮) এবং আলী হাসান মো. মুজাহিদের (২২) নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহার আমলে নিয়ে মতিহার থানা পুলিশ মামলা রুজু করে অভিযান পরিচালনা করে মুহিন (১৮) এবং আলী হাসান মো. মুজাহিদ (২২) নামের দুইজনকে আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধরের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, আটক মুহিন এবং আলী হাসান মো. মুজাহিদের মাঝে মুজাহিদ এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির থানা থেকেই জামিন দিয়ে দেন। মুজাহিদ এজাহারভুক্ত আসামি হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকায় এবং পরীক্ষার কথা বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আরএমপি মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান এমনটিও প্রতিবেদনে বলা হয়।

সুতরাং, রাজশাহীতে চুরির অভিযোগে যুবককে মারধরের ভিডিওকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মারধরের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: