রমনা থানার পুলিশের গাড়িতে আগুনের ঘটনা নিয়ে একাধিক ভুয়া দাবি

আগামী ১৩ নভেম্বর রাজধানী ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এর প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আজ (১২ নভেম্বর), সকালে রমনা থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তত তিনটি দাবি ছড়াতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, রমনা থানায় পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে শিবির। কিছু পোস্টে এই ঘটনার জন্য দায় দেওয়া হয়েছে বিএনপিকে। অন্যদিকে, কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেছেন, পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে জামাত-বিএনপি ও এনসিপির নেতারা।

এসব দাবির ফেসবুক পোস্টগুলো দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।  

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রমনা থানার পুলিশের গাড়িতে আগুনের ঘটনায় এনসিপি, ছাত্রশিবির, জামায়াতকে জড়িয়ে প্রচারিত দাবিগুলো সঠিক নয় বরং মেরামতের সময় গাড়িটিতে আগুন লেগে যায়। এর সাথে রাজনৈতিক কোনো ঘটনার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীর রমনা থানার সামনে মিস্ত্রির ভুলে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছেন রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ আগুন কোনো দুর্বৃত্ত দেয়নি। গাড়ির কাজ করার সময় হঠাৎ আগুন লেগে যায়। বুধবার (১২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।

আরেক অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ২৪ এর প্রতিবেদনে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) তালেবুর রহমানের এ সংক্রান্ত একটি মন্তব্য পাওয়া যায়। তিনি জানান, “পিকআপটি নষ্ট হওয়ায় মিস্ত্রি ডেকে ঠিক করার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লেগে যায়। পরে তা স্থানীয়ভাবে নিভিয়ে ফেলা হয়। এতে মিস্ত্রি সামান্য আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

অর্থাৎ, রাজনৈতিক কোনো দলের কর্মী বা রাজনৈতিক কোনো ঘটনায় পুলিশের গাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটেনি।

পরবর্তী ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম “পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে জামাত-বিএনপি ও এনসিপির নেতারা” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম সূত্রে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই ঘটনায় মাসুদ আলমের ভিন্ন মন্তব্য পাওয়া যায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। পরে একজন মেরামতকারী এনে গাড়িটি ঠিক করা হচ্ছিল। এ সময় মেরামতকারীর ভুলে গাড়িটিতে আগুন লাগে।

অর্থাৎ, ডিসি মাসুদ আলোচিত মন্তব্যটি করেননি।

সুতরাং, রমনা থানার পুলিশের গাড়িতে আগুনের ঘটনায় এনসিপি, ছাত্রশিবির, জামায়াতকে জড়িয়ে প্রচারিত দাবিগুলো ভুয়া।

তথ্যসূত্র

Share: