সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁনকে বিএনপির নেতাকর্মীরা গণধোলাই দিয়েছেন দাবিতে কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
একই দাবিতে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: ইন্সটাগ্রাম, টিকটক।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২২ সালে ছাত্রলীগের হামলায় রাশেদ খাঁন আহত হওয়ার পুরোনো ছবি ব্যবহার করে তাকে সম্প্রতি বিএনপির নেতাকর্মীরা গণধোলাই দিয়েছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে সম্প্রতি রাশেদ খাঁনের ওপর হামলা বা তাকে গণধোলাই দেওয়ার বিষয়ে কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে গণমাধ্যমসহ নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা।
পরবর্তী অনুসন্ধানে রাশেদ খাঁনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ওই পোস্টে সংযুক্ত ছবিগুলোর সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলোর মিল রয়েছে।

পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, নেত্রকোনায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাওনের নেতৃত্বে তারাসহ কয়েকজন নেতার ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
সেদিন বাংলাভিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও জানা যায়, কারামুক্ত হাসান আল মামুনকে নিয়ে নেত্রকোনায় তার বাড়িতে যাওয়ার পথে গণ অধিকার পরিষদের তৎকালীন নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে কয়েকজনকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাশেদ খাঁনসহ নেতাকর্মীরা হাসান আল মামুনের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
সাম্প্রতিক দাবিটির বিষয়ে রাশেদ খাঁন এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলায় অতীতে আহত হওয়ার ছবি জামায়াত-শিবিরের লোকজন নতুন করে ছড়িয়ে তাকে অপকর্ম করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হিসেবে প্রচার করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও রাশেদ খাঁনকে মারধর ও পরকীয়ার অভিযোগে নারীসহ আটক করার দাবিতে ২০২২ সালের একই ছবিগুলো এআই দিয়ে সম্পাদনা করে প্রচার করা হয়েছিল। সে সময় এ বিষয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমর স্ক্যানার।
সুতরাং, ২০২২ সালে ছাত্রলীগের হামলায় রাশেদ খাঁন আহত হওয়ার পুরোনো ছবি ব্যবহার করে তাকে সম্প্রতি বিএনপির নেতাকর্মীরা গণধোলাই দিয়েছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Md Rashed Khan – Facebook Post
- Md Rashed Khan – Facebook Post
- Bangla Vision – নেত্রকোনায় গিয়ে রাশেদসহ গণ অধিকার নেতারা অবরুদ্ধ


