রাশেদ খাঁন গুলিবিদ্ধ দাবিতে কালের কণ্ঠের নামে সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে গণঅধিকার পরিষদের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁনের ছবিযুক্ত ‘ইন্না লিল্লাহ ওসমান হাদীর পর এবার গুলি বিদ্ধ রাশেদ খান? ভিডিও দেখুন কমেন্টে’ শিরোনামে গণমাধ্যম কালের কন্ঠ এর ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, রাশেদ খাঁন গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কালের কন্ঠ এরূপ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, কালের কণ্ঠের প্রচলিত ফটোকার্ডের ডিজাইনের আদলে আলোচিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ব্লগস্পটের ফ্রি ডোমেইন সাইটে প্রকাশিত কথিত প্রতিবেদনের বরাতে ভুয়া এই দাবি প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে কালের কণ্ঠের লোগো রয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সম্বলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, কালের কণ্ঠের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।
তবে, কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে গত ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়, যেটির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডে কালের কন্ঠের লোগো এবং রাশেদ খাঁনের ছবির মিল রয়েছে, তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। মূলত, “হি/ট লিস্টে আমাকেও রাখা হয়েছে’’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের উক্ত ফটোকার্ডটির শিরোনামের স্থলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ‘ইন্না লিল্লাহ ওসমান হাদীর পর এবার গুলি বিদ্ধ রাশেদ খান? ভিডিও দেখুন কমেন্টে’ প্রতিস্থাপন করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
কালের কণ্ঠের উক্ত ফটোকার্ডের মন্তব্য ঘরে দেওয়া ওয়েবসাইটের লিংকে একই শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাশেদ খাঁনের একটি ফেসবুক পোস্টের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ওসমান হাদির পর টার্গেট কে, এমন প্রশ্ন রেখে রাশেদ খান তার পোস্টে বলেন, ‘ফেসবুকে দেখলাম একটি হিট লিস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমাকে লিস্টে রাখা হয়েছে।’’
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির পোস্টে একটি ব্লগপোস্টের লিংক সূত্র হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘protibadnews76.blogspot.com’ নামের ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটটি ভূঁইফোড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। এই সাইটে ‘হাদীর পর নেক্সট টার্গেট আমি -দাবি গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান’ শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে এবং ‘গুলি বিদ্ধ রাশেদ খান ভিডিও দেখুন এখানে’ শিরোনামে প্রতিবেদনটিতে একটি ভিডিও সংযুক্ত থাকলেও সেটিতে ক্লিক করলে তা সঠিকভাবে চালু না হয়ে বরং এটি বিভিন্ন জুয়ার সাইটে প্রবেশ করে ।
কথিত এই সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গণমাধ্যমের সাথে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে রাশেদ খান জানান যে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনি একাধিকবার অজ্ঞাত নম্বর থেকে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী- “হাদীর ওপর হামলা ও তার মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, ভিন্নমত পোষণ করা নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে। আর সেই তালিকায় আমার নাম আছে-এটা আমি নিশ্চিত হয়েছি।”
রাশেদ খাঁনকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে বা তিনি গুলিবিদ্ধ হলে উক্ত বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার হতো। কিন্তু, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
সুতরাং, রাশেদ খাঁন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দাবিতে কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Kaler Kantho – Facebook Post
- Md Rashed Khan – Facebook Page

