সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাদের লাশ বহনের নয়, ভিডিওটি অন্তত ১৪ বছর পুরোনো

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ঘটনায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে নিহত যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্যদের কফিন বন্দি লাশ দেশটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সাথে সম্পৃক্ত ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, অন্তত ২০১১ সাল থেকে ইন্টারনেট বিদ্যমান একটি ভিডিওকে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকালীন ঘটনা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে Patrick J. Hughes নামক ইউটিউব চ্যানেলে ২০১১ সালের ০৯ জুন ‘Dignified Transfer | Dover AFB | June 8, 2011’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির ০১:৪০ থেকে ০২:০০ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশটি আলোচিত ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে।
ভিডিওটির বিস্তারিত বিবরণীতে দাবি করা হয়, ২০১১ সালের ৮ জুন ইরাক যুদ্ধে ‘অপারেশন নিউ ডন’ এ নিয়োজিত সার্জেন্ট এমিলিও জে. ক্যাম্পো জুনিয়র, পিএফসি মাইকেল বি. কুক, পিএফসি ক্রিস্টোফার বি. ফিশবেক, পিএফসি মাইকেল সি. অলিভিয়েরি নামক চারজন নিহত মার্কিন সৈন্যের মৃতদেহ দেশে নেওয়ার পর বিমান থেকে নামানোর দৃশ্য এটি৷
একই ঘটনার দৃশ্য দাবিতে ভিডিওটি অন্য কোথাও প্রচারের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে ভিডিওটির উৎস চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে, এটি স্পষ্টতই ইরান-ইসরায়েলের মধ্যকার বর্তমান সংঘাতের দৃশ্য নয়।
সুতরাং, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনাদের লাশ বহনের দৃশ্য দাবিতে অন্তত ১৪ বছর পুরোনো ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Patrick J. Hughes – Dignified Transfer | Dover AFB | June 8, 2011

