ব্র্যাক শিক্ষার্থীর নামে জুলাই আন্দোলন নিয়ে ‘অনুশোচনার’ পোস্টটি বানোয়াট  

সম্প্রতি ‘Niave Sarae’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নিজেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচেলর অব ল’-এর শিক্ষার্থী দাবি করে দীর্ঘ একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। পোস্টে বলা হয়, তিনি জুলাই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য না বুঝেই অংশ নিয়েছিলেন। নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তিনি বলছিলেন, “আমি পুরো জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে মাফ করবেন। আমি নিজে একজন নারী হয়ে বলছি, আমি শেখ হাসিনার সময়েই নিজেকে বেশি নিরাপত্তায় অনুভব করতে পারতাম। সেইটা তখন থেকে বুঝতে পেরেছি যখন থেকে শেখ হাসিনার অভাব এই দেশে প্রয়োজনে হয়েছে।”

এই পোস্টে তিনটি ছবিও যুক্ত করা হয় যার একটিতে ব্র্যাকের স্টুডেন্ট আইডি কার্ড এবং এক নারীর দুইটি ছবি রয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টটি দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিটি ভুয়া। প্রকৃতপক্ষে, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন এক শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড সম্পাদনা করে ভুয়া নাম বসিয়ে এবং আরো দুইটি ছবি এআই দিয়ে সম্পাদনা করে বানোয়াট দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

এই বিষয়ে অনুসন্ধানে কিওয়ার্ড সার্চ করে গত ১৪ মে ফেসবুকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিউনিটিতে এক শিক্ষার্থী মালিকের সন্ধান চেয়ে একটি আইডি কার্ডের ছবি পোস্ট করেন। উক্ত আইডি কার্ডের ছবির সাথে আলোচিত আইডি কার্ডের ছবির পারিপার্শ্বিক মিল পাওয়া যায়। তবে নাম এবং ছবির ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

পরবর্তীতে পোস্টকারী ব্যক্তির কাছে থাকা ছবিটির মূল ফাইল সংগ্রহ করে রিউমর স্ক্যানার। ছবিটির মেটাডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ছবিটি কোনো প্রকার সম্পাদনা করা হয়নি। ছবিটি গত ১৪ মে সকাল ১১ টা ০২ মিনিটে স্যামসাং এর Galaxy S23 মডেলের মোবাইলের মাধ্যমে তোলা হয়।

উক্ত শিক্ষার্থী জানান, গত ১৪ মে তার এক সহকর্মী রাস্তায় আইডি কার্ডটি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। এরপর কার্ডের মালিকের খোঁজ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটি গ্রুপে তিনি কার্ডের এই ছবি তুলে পোস্ট করেন। মালিকের সন্ধান পাওয়ার পর তিনি পোস্টটি সরিয়ে নেন।

অর্থাৎ, এই পোস্ট থেকেই ছবিটি নিয়েই নাম ও ছবি বদলে দিয়ে সম্পাদনা করা হয়।

প্রচারিত ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদিত কি না তা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। গুগলের এই প্রযুক্তি এআই দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও বা অডিওতে অদৃশ্য জলছাপ যুক্ত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও গুগলের নিজস্ব টুলের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়। ছবিটি সিন্থআইডি দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ছবিটির অধিকাংশ বা পুরো অংশই গুগল এআই ব্যবহার করে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ‘Niave Sarae’ নামের ফেসবুক প্রোফাইলের পোস্ট করা বাকি দুইটি ছবিও সিন্থআইডি দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই ছবিগুলোর অধিকাংশ বা পুরো অংশই গুগল এআই ব্যবহার করে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে।  

তাছাড়া, ‘Niave Sarae’ নামের ফেসবুক প্রোফাইলটিও জুলাই আন্দোলনের সময়ের নয়, বরং সাম্প্রতিক সময়ে (১৮ এপ্রিল ২০২৬) চালু করা হয়।

সুতরাং, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন শীর্ষক দাবিটি ভুয়া।

তথ্যসূত্র

  • Meta Data Analysis 
Share: