শেখ হাসিনার কপালে নামাজের দাগ দেখার কথা বলেননি চরমোনাই পীর, কাটছাঁট ভিডিও প্রচার

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই খ্যাত সৈয়দ রেজাউল করিম শেখ হাসিনার কপালে নামাজের দাগ দেখেছেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কপালে নামাজের দাগ দেখা যায়। আমি প্রশ্ন করলাম, আপনার কপালে তো নামাজের দাগ দেখছি। হুজুর, আমি সাত বছর বয়স থেকে নামাজ পড়ি। কীভাবে? বললো, হুজুর আমি যদি নামাজ না পড়তাম, আমার মা আমার জন্য ঘরে ভাত রান্না করতো না। আমার মা আমাকে নামাজি বানানোর চেষ্টা করেছে। সেই থেকে আমি নামাজ পড়ি, নামাজ ছাড়ি না।’

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

একই দাবিতে অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: ইউটিউব, টিকটক, ইন্সটাগ্রাম

এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত টিকটকে প্রচারিত এই দাবি সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রায় ৩ লক্ষ বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে প্রায় ১১ হাজার পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং এটি প্রায় ১৭ শত বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দ রেজাউল করিম শেখ হাসিনার কপালে নামাজের দাগ দেখেছেন বলে কোনো বক্তব্য দেননি। প্রকৃতপক্ষে, গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে নির্বাচনে নেওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার সঙ্গে বৈঠক করতে আসা এক ব্যক্তির কপালে নামাজের দাগ দেখার কথা বলেন। ওই বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ কাটছাঁট করে জুড়ে দিয়ে তৈরি করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে আলোচিত দাবি ছড়ানো হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে রিউমর স্ক্যানার আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে। ভিডিওর শুরুতে শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণের পর হঠাৎ কপালে নামাজের দাগ সংক্রান্ত কথা শোনা যায়। এই দুই অংশের সংযোগস্থলে ফ্রেমের পরিবর্তন, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা এবং শরীরের অবস্থানের আকস্মিক বদল লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশ কাটছাঁট করে জুড়ে দিলে এ ধরনের অসংগতি দেখা যায়।

ভিডিওটি আরও বিশ্লেষণ করে সৈয়দ রেজাউল করিমের পোশাক ও সামনে থাকা গণমাধ্যমের মাইক্রোফোনের সূত্র ধরে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এখন টিভিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আয়োজিত একটি জাতীয় সেমিনার সংক্রান্ত।

এই সূত্র ধরে একই দিনে আরটিভির ইউটিউব চ্যানেলে সৈয়দ রেজাউল করিমের বক্তব্যের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২০২৪, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার যখন পাতানো নির্বাচন তৈরি করেছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল নির্বাচনে নেয়ার ব্যাপারে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যখন আমাকে নিয়ে বসবে (প্রতিনিধি দল), তখন আমি শর্ত লাগিয়েছিলাম… বসার পরে আমি দেখতেছিলাম যে, তার (একজন প্রতিনিধির) কপালে নামাজের দাগ দেখা যায়। তো আমি প্রশ্ন করলাম যে, আপনার কপালে তো নামাজের দাগ দেখছি… তখন সে বলতেছিল, হুজুর আমি সাত বছর বয়স থেকে আমি নামাজ পড়ি।’

অর্থাৎ, সৈয়দ রেজাউল করিমের মূল বক্তব্যটি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কাটছাঁট করে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি শেখ হাসিনার কপালে নয়, বরং তার পাঠানো জনৈক পুরুষ প্রতিনিধির কপালে নামাজের দাগ দেখার কথা বলেছিলেন।

সুতরাং, সৈয়দ রেজাউল করিম শেখ হাসিনার কপালে নামাজের দাগ দেখেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: