শিশির মনিরকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দাবি করে আরটিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরটিভির লোগো ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরের ছবি সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচারিত হয়। ফটোকার্ডটিতে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে শিশির মনিরকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। একই সঙ্গে এতে দাবি করা হয়, শিশির মনির বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হয়েছেন।

উক্ত দাবির প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হলেন শিশির মনির’ শিরোনামে আরটিভি কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, আরটিভির ফটোকার্ডের ডিজাইনের আদলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, এ সংক্রান্ত দাবিতে প্রচারিত ছবিটিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে আরটিভির নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। এর সূত্র ধরে আরটিভির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে এমন কোনো ফটোকার্ড, সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তী সময়ে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডে সংযুক্ত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে ছবিটি আসল হওয়ার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য উৎসেও ছবিটির অস্তিত্বের প্রমাণ মেলেনি।

ছবিটি এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কি না, তা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনির সহায়তা নেয়। জেমিনির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আলোচিত ছবিটির কিছু অংশ গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে।

ছবিটি এআই দ্বারা সম্পাদিত বা তৈরি করা হয়েছে কিনা তা আরও যাচাই করতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশনেও বিশ্লেষণ করা হয়। এতে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

এছাড়া, শিশির মনির তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করে জানান, তাকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দাবি করে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

সুতরাং, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হলেন শিশির মনির’ শিরোনামে আরটিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া এবং এ সংক্রান্ত ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

তথ্যসূত্র

Share: