রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগে যোগ দেননি, এই ভিডিওটি এডিটেড

সম্প্রতি, ‘হঠাৎ পালটি খেলো রুমিন ফারহানা শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার’ শীর্ষক শিরোনামে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওটিতে বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ যুক্ত করে দাবি করা হয়েছে, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

এছাড়াও ভিডিওটির বিস্তারিত অংশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের একটি ভিডিও ফুটেজ যুক্ত করে দাবি করা হয়েছে, মির্জা ফখরুলও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

সমজাতীয় টিকটক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি এ বিষয়ে সর্বাধিক ভাইরাল পোস্টটি এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজারের অধিক বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে ৭ হাজারের অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ভিডিওটি ২৮ হাজারের অধিক বার শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওটির মন্তব্যঘর ঘুরে অধিকাংশ নেটিজেনকে উক্ত দাবির পক্ষে মতামত দিতে দেখা যায়।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা কিংবা মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেউই আওয়ামী লীগে যোগ দেননি বরং ইন্টারনেট থেকে রুমিন ফারহানা ও মির্জা ফখরুলের বিভিন্ন বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে ভিন্ন অডিও যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি বানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ভিডিওটির শুরুর একটি ফুটেজে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, “নৌকার ভোট হবে ওপেনে। নৌকার বিরুদ্ধে গেলে কারো বাঁচন নাই।”

এছাড়াও তাকে “শেখ হাসিনার সরকার, এই মুহূর্তে দরকার” শীর্ষক স্লোগান দিতে দেখা যায়।

ভিডিওটির সংবাদপাঠ অংশে বলা হয়, রুমিন ফারহানা ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

দাবিটি যাচাইয়ে আলোচিত ভিডিওটিতে যুক্ত রুমিন ফারহানা ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভিডিও ফুটেজগুলো আলাদা আলাদাভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

ভিডিও যাচাই-১

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বায়ান্ন টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ৩১ মার্চ ‘আওয়ামী লীগ মোনাফেক দল : রুমিন ফারহানা’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির শুরুর অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়। তবে সেখানে অডিওর ভিন্নতা রয়েছে।

ভিডিওটি সেবছরে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির সদর উপজেলার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের সময়ের। ভিডিওটিতে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগকে মোনাফেকের দল বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়।

অর্থাৎ, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের পুরোনো ভিডিও। এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

ভিডিও যাচাই-২

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যম কালবেলা’র ইউটিউব চ্যানেলে চলতি মাসের ০৩ আগস্ট ‘এটা জনতার আন্দোলন বিজয়ও হবে জনতার’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির একটি অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়। তবে সেখানে অডিওর ভিন্নতা রয়েছে।

এই ভিডিওটি কোটা আন্দোলনের সময়ের। ভিডিওটিতে রুমিন ফারহানাকে ‘পদত্যাগ পদত্যাগ’ বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।

অর্থাৎ, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ভিডিও। এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

ভিডিও যাচাই-৩

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময় টিভি’র.ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ০৩ অক্টোবর ‘আওয়ামী লীগের কাপাকাপি শুরু হয়ে গেছে: রুমিন ফারহানা’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির শুরুর অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

ভিডিওটিতে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, “ডিসি সাহেব হাত তুলে মোনাজাত করে বলতেছে বিএনপি, জামায়াত এবং অন্যান্য দলের উচিত দোয়া করা যাতে শেখ হাসিনা সরকার আবার ক্ষমতায় আসে।”

অর্থাৎ, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের পুরোনো ভিডিও। এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

ভিডিও যাচাই-৪

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময় টিভি’র ফেসবুক পেজে গত ২৪ জুলাই ’ছাত্রদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হয়নি: ফখরুল’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির শুরুর অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়। তবে সেখানে অডিওর ভিন্নতা রয়েছে।

ভিডিওটিতে মির্জা ফখরুলকে জুলাইয়ের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়।

অর্থাৎ, এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ভিডিও। এর সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

অর্থাৎ, উপরিউক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্ট যে, রুমিন ফারহানা ও মির্জা ফখরুলের কয়েকটি ভিডিও ক্লিপের সাথে ভিন্ন ভিন্ন অডিও যুক্ত করে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়াও, রুমিন ফারহানার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো তথ্য বা বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো তথ্য বা বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি, গণমাধ্যম কিংবা বিএনপি সংশ্লিষ্ট অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে উক্ত দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আলোচিত ভিডিওটি বিকৃত।

তথ্যসূত্র

Share: