বৈরী আবহাওয়ায় গত ১৩ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এরই প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন দাবিতে কথিত পদত্যাগপত্রের একটি ছবি প্রচার হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে৷ কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন৷
এ সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে।
একই দাবির পোস্ট দেখুন টিকটকে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া সংক্রান্ত দাবিগুলো সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর সহায়তায় পদত্যাগপত্রের ছবিটি তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে। তাছাড়া, গতকাল নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংসদে বক্তৃতা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে দাবিগুলোর পক্ষে কোনো তথ্য বা সংবাদমাধ্যমে পদত্যাগপত্রের ছবিটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী অনুসন্ধানে, ওপেন এআই টুলসের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি এবং এতে ওপেন এআই থেকে জেনারেট হওয়া সিন্থআইডির ওয়াটারমার্কেরও অস্তিত্ব রয়েছে।

পরবর্তীতে, আরেক এআই শনাক্তকরণ টুল হাইভ ডিটেক্টেও ছবিটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে জানা যায়।
অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উচ্চমাধ্যমিকের পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা আবার নেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে একটি বিলের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।
সুতরাং, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Ai Analysis


