ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে থাকা ভিন্ন এক ব্যক্তির মুখমণ্ডলের স্থানে আবিদুল ইসলামের মুখমণ্ডল প্রতিস্থাপন করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আবিদুল ইসলাম ও সাদ্দাম হোসেনের একসঙ্গে তোলা এমন কোনো ছবির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গুগলের জেনারেটিভ এআই মডেল জেমিনির তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির বেশিরভাগ অংশ বা পুরো ছবিই গুগল এআই ব্যবহার করে সম্পাদিত বা তৈরি করা হয়েছে। গুগল তাদের এআই টুল দিয়ে তৈরি কনটেন্টে ‘সিন্থআইডি’ (SynthID) নামে একটি ডিজিটাল জলছাপ যুক্ত করে, যার মাধ্যমে পরবর্তীতে এমন কনটেন্ট শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
এ ধরনের ছবি তৈরিতে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পৃথক ছবি ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে সরকারি বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ফয়েজ আহমেদ নিজুর ফেসবুক প্রোফাইলে ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত একটি ছবি পাওয়া যায়।

ওই ছবির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে। তবে আলোচিত ছবিতে যেখানে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে আবিদুল ইসলামকে দেখা যাচ্ছে, মূল ছবিতে সেখানে রয়েছেন ছবিটি আপলোডকারী আহমেদ নিজু।
অন্যদিকে, আবিদুল ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে ২০১৮ সালের ৮ মার্চ প্রোফাইল ছবি হিসেবে ব্যবহৃত একটি ছবির চেহারার সঙ্গেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, আবিদুল ইসলাম ও সাদ্দাম হোসেনের পৃথক দুইটি ছবির সমন্বয়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলামের ভাইরাল ছবিটি এআই-জেনারেটেড।
তথ্যসূত্র
- MD.Abidul Islam Khan – Facebook Post
- Foiz Ahmed Niju – Facebook Post
- SynthID


