গতকাল (১ জুন) দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ মারা যান৷ তার মৃত্যুতে অনেককেই শ্রদ্ধা জানাতে বা দুঃখপ্রকাশ করতে দেখা যায়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, ‘ফ্যাসিস্টদের জন্য আবেগ দেখানোর আগে আপনাকে মনে রাখতে হবে অতীতের সেই সময় গুলো, স্মৃতি গুলো। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে তার নিজের দেশে মরতে দেওয়া হয় নাই। তাকে সংসদ ভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেওয়া হয় নাই, দেয় নাই শহিদ মিনারে নিয়ে যাইতে। অথচ এই দেশটা বানাতে গিয়ে যৌবনের সোনালী সময়টা মৃত্যুকে হাতে নিয়ে গেরিলা যুদ্ধ করেছেন নয়টি মাস। এতদ্রুত ভুলে গেলে চলবে না। এই গুলো মনে রাখতে হবে।’
অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে মারা যান সাদেক হোসেন খোকা।
এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও জাতীয় সংসদ ভবনে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি শীর্ষক দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরে সাদেক হোসেন খোকার দ্বিতীয় জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেদিনই শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নেওয়া হয়েছিল।
আলোচিত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘সমকাল’ এর ওয়েবসাইটে ‘সংসদ ভবনে খোকার জানাজা সম্পন্ন’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাদেক হোসেন খোকার দ্বিতীয় জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সংসদ ভবনে জানাজা শেষে খোকার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাদেক হোসেন খোকার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায়।
এছাড়াও, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’ এর ওয়েবসাইটেও ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাদেক হোসেন খোকার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে একইরকম তথ্য পাওয়া যায়।
এছাড়াও, অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ‘যমুনা টিভি’র ওয়েবসাইটে ‘শহীদ মিনারে খোকার মরদেহ, শ্রদ্ধা নিবেদন’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তুরের মানুষ।.. বেলা ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয় সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ।’
এছাড়াও, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘জাগোনিউজ২৪’ এর ওয়েবসাইটেও ‘শহীদ মিনারে খোকাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়, ‘কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ’। পাশাপাশি, প্রতিবেদনে খোকার মরদেহে শ্রদ্ধা জানানোর ৭টি ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, উপরোক্ত তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে জাতীয় সংসদ ভবন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছিল।
সুতরাং, সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যেতে না দেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Jamuna TV – শহীদ মিনারে খোকার মরদেহ, শ্রদ্ধা নিবেদন
- Samakal – সংসদ ভবনে খোকার জানাজা সম্পন্ন
- Jagonews24 – শহীদ মিনারে খোকাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল
- Bangla Tribune – সংসদ ভবনে খোকার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত


