সালাহউদ্দিন আম্মার গণধোলাইয়ের শিকার হননি, ভিন্ন ব্যক্তির পুরোনো ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গণধোলাই দিয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি সালাহউদ্দিন আম্মারের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি গত ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সংঘর্ষের সময় আহত হওয়া ফাহাদ নামের ভিন্ন এক ব্যক্তির ভিডিও।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ‘Samprotik Somoy – সাম্প্রতিক সময়’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি স্পষ্ট হওয়ায় বোঝা যায়, এতে থাকা ব্যক্তি সালাহউদ্দিন আম্মার নন। ভিডিওটির শিরোনাম থেকেও জানা যায়, এটি ইনকিলাব মঞ্চ-সংশ্লিষ্ট ঘটনার।

৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং বিক্ষোভকারীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

ভিডিওটির বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ইনকিলাব মঞ্চের কোনো সাংগঠনিক নেতা নন। তবে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তার নাম মুহাম্মদ ফাহাদ। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ভিডিও আপলোডের প্রমাণ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আম্মারকে গণধোলাই দেওয়ার বিষয়ে কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই ১৩ মে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েমের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত (,) থাকতে দেখা যায়।

সুতরাং, সালাহউদ্দিন আম্মার গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে যে দাবি প্রচার করা হয়েছে তা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: