যশোর ও খুলনা দখলে বিজেপি নেতা বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন শীর্ষক দাবিটি বিভ্রান্তিকর

সম্প্রতি নানা গণমাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে ‘যশোর ও খুলনা দখলে বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন বিজেপি  (ভারতীয় জনতা পার্টি) নেতা শমীক ভট্টাচার্য’।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন: ইনকিলাব, আমার দেশ, দেশ রূপান্তর, বিডি টুডে, ঢাকা টুডে, বিডি২৪রিপোর্ট, ডেল্টা লেন্স (ফেসবুক), সবার দেশ, ইনসাফ২৪, বিডি নিউজ৯৯৯, প্রবাহ, জন পালস (ইনস্টাগ্রাম), আজকের কুমিল্লা, আরএনএস নিউজ, সবুজ সিলেট, ডেইলি বাংলাদেশ মিরর, টেবিল টক ইউকে (ফেসবুক)।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদ দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, যশোর ও খুলনা দখলে বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতা শমীক ভট্টাচার্য শীর্ষক দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে শমীক ভট্টাচার্যের যশোর ও খুলনা বিষয়ক ভিন্ন বক্তব্য বিকৃত করে তাতে বাংলাদেশি হিন্দুদের জড়িয়ে আলোচিত দাবি প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত নানা প্রতিবেদনে সংযুক্ত প্রেস কনফারেন্সের ছবির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে ‘বিজেপি ওয়েস্ট বেঙ্গল’ এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৪ মার্চে প্রচারিত ২৭ মিনিট ২০ সেকেন্ডের লাইভ প্রেস কনফারেন্সটি পাওয়া যায় যা থেকে আলোচিত দাবির সূত্রপাত হয়। প্রেস কনফারেন্সে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যসহ আরো কয়েকজন বিজেপি নেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস কনফারেন্সটির শেষের দিকে এক প্রশ্নের জবাবে কথা বলার সময় এক পর্যায়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘..কারও যদি সাহস থাকে, সে মিম-ই হোক বা হুমায়ুন কবীর কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফিরহাদ হাকিম; একবার দেখান তো বাবরি মসজিদ বানিয়ে। পুরো ভারত ঝাঁপিয়ে পড়বে। পশ্চিমবঙ্গের সব সম্প্রদায় এর বিরোধীতায় দাঁড়াবে। এই গোলামির যে নিশান মিটিয়েছি আমরা, তা আবার বানাতে দেব না আমরা। আর ভারতে এইসব যা কিছু ঘটছে, তার জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সরকার। তৃণমূল কংগ্রেস ধর্মের ভিত্তিতে পুরো সমাজকে ভাগ করে দিয়েছে। হিন্দু–মুসলমানের মধ্যে দেয়াল সৃষ্টি করছে, একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াচ্ছে, দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করছে। আজ মুর্শিদাবাদে যা হয়েছে, আজ মহেশতলায় যা হয়েছে, খিদিরপুরে যা হয়েছে, পুরো পশ্চিমবঙ্গের চেহারা বদলে গেছে। সীমান্তবর্তী সব জেলার জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। রাজবংশীদের জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আদিবাসীদের জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, ভারতের জমিও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

যদি বাংলাদেশ থেকে আসো, তবে সঙ্গে জমিও নিয়ে আসো। আমরা বলি, যদি তোমার কাছে রাখার সামর্থ্য না থাকে, খাওয়ানোর সক্ষমতা না থাকে, যাকে পাঠাচ্ছ তাকে পাঠাও; আর সেই সঙ্গে যশোরের অর্ধেক ও খুলনার যে পুরোনো হিসাব আছে, সেই দুই জেলাকে ভারতের সাথে যুক্ত করে দাও। এভাবে চলতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ জেগে উঠেছে। এবারের নির্বাচনের প্রথম ইস্যু হলো–আমরা পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ হতে দেব না।..’’ (হিন্দি ভাষায় মূল বক্তব্য থেকে অনূদিত)

এছাড়াও, ‘আজতক বাংলা’, ‘দ্যা ওয়াল’সহ আরো নানা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও শমীক ভট্টাচার্যের উক্ত বক্তব্যের ভিডিও পাওয়া যায়। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে তাতে কোথাও যশোর ও খুলনা দখলে বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চাইতে দেখা যায়নি শমীক ভট্টাচার্যকে। প্রকৃতপক্ষে শমীক ভট্টাচার্য যশোর ও খুলনা ‘দখল’ এর বদলে বাংলাদেশকে যশোর ও খুলনা ভারতকে দিয়ে দিতে বলেছেন এবং এসময় তিনি বাংলাদেশি হিন্দুদের সহযোগিতা চাননি। তবে, এর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা/’অনুপ্রবেশকারী’দের উদ্দেশ্যে আসার সময় সাথে জমি নিয়ে আসতেও বলেছেন, তবে সে বাক্যেও বাংলাদেশের হিন্দুদের উল্লেখ করে তিনি যশোর ও খুলনাকে ভারতভুক্ত করার কথা বলেননি।

সুতরাং, যশোর ও খুলনা দখলে বাংলাদেশি হিন্দুদের সহায়তা চেয়েছেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য শীর্ষক দাবি বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: