সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেত্রী ও রাকসু নির্বাচনে এজিএস প্রার্থী জাহিন বিশ্বাস এষার ছবি সংযুক্ত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। ফটোকার্ডটির শিরোনামে দাবি করা হয়, ‘প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে, রাবি ছাত্র পাগল, ক্যাম্পাসেই “গারদ” বসানোর আবেদন প্রেমিকার!’

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। জাহিন বিশ্বাস এষা ও সালাহউদ্দিন আম্মারকে জড়িয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভুয়া একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফটোকার্ডটির সূত্রপাত একটি সার্কাজমধর্মী ফেসবুক পেজের পোস্ট থেকে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে, আলোচিত ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণ করে কয়েকটি অসংগতি চিহ্নিত হয়। এতে “gojobvision” নামে একটি লোগো ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে “৩৬ জুলাই, ২০২৬” যা বাস্তবসম্মত নয়। এরই সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, gojobvision নামের ওই পেজ থেকেই গত ২০ জানুয়ারি একই ফটোকার্ড প্রথম প্রকাশ করা হয়।

পেজটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এর বায়োতে উল্লেখ রয়েছে “শুধু বিনোদনের জন্য! সমসাময়িক খবর ব্যঙ্গ-সারকাজমে উপস্থাপন। সিরিয়াস হবেন না।” পাশাপাশি অ্যাবাউট সেকশনে পেজটিকে Satire/Parody হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, পেজটি নিজেই তাদের কনটেন্টকে ব্যঙ্গধর্মী ও অবাস্তব উপস্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করেছে। পেজটির পূর্ববর্তী পোস্টগুলো পর্যালোচনায় একই ধরনের তথ্যপ্রমাণহীন ও সার্কাজমভিত্তিক একাধিক কনটেন্ট পাওয়া গেছে। (১,২,৩)
এছাড়া, মূলধারার গণমাধ্যম কিংবা কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবির পক্ষে সমর্থনযোগ্য তথ্য বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত এমন কোনো ঘটনার তথ্যও নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।
সুতরাং, “প্রেমিকার অন্যত্র বিয়েতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পাগল হয়েছে এবং প্রেমিকা ক্যাম্পাসেই ‘গারদ’ বসানোর আবেদন করেছে” এ দাবিটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Gojob Vision – Facebook Post
- Rumor Scanner’s own analysis


