তারেক রহমানের সহযোগিতায় আইভীর কারামুক্তি ও বিএনপিতে যোগদানের দাবিটি ভুয়া, প্রচারিত এআই-নির্মিত ছবি প্রচার 

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি যুক্ত করে ‘তারেক রহমানের সহযোগিতায় জেলখানা থেকে বের হয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন মেয়র আইভি রহমান’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটকে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অবধি ভিডিওটি প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজারবার দেখা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, তারেক রহমানের সহোযোগিতায় সেলিনা হায়াৎ আইভী কারাগার থেকে মুক্তি পাননি এবং তিনি বিএনপিতেও যোগদান করেননি। তারেক রহমানের সাথে আইভী রহমানের ছবিও আসল নয়৷ প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি ছবি ব্যবহার করে কোনোপ্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়া আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে৷

উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে উক্ত দাবিকে সমর্থন করে এমন কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি৷

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর ওয়েবসাইটে গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নতুন করে আরও পাঁচ মামলায় গ্রেফতার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে, ফতুল্লা থানায় চারটি হত্যা মামলা এবং সদর থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার একটি মামলা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পৃথক দু’টি আমলি আদালতে শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। শুনানির সময় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অভিযুক্ত সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

পরবর্তীতে তার জামিন পাওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্তসূত্রে খুঁজে পাওয়া যায় নি। সেলিনা হায়াৎ আইভীর মতো ব্যক্তি কারাগার থেকে মুক্তি পেলে সে বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার হতো।

তাছাড়া, বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও তাদের মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ এবং তাদের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবিকে সমর্থন করে এমন কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি৷

পরবর্তীতে, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত হতেকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর ‘SLADD (2022)’ মডেলের মাধ্যমে ছবিগুলো পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিগুলো এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।

সুতরাং, সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিএনপিতে যোগদানের দাবিটি মিথ্যা এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো এআই-নির্মিত।

তথ্যসূত্র

Share: