রাবির শেরেবাংলা হলে অস্ত্র থাকা সংক্রান্ত বক্তব্যটি শফিকুল ইসলাম মাসুদের নিজস্ব বক্তব্য নয়

সম্প্রতি, অনলাইন প্লাটফর্ম ‘ফেস দ্য পিপল’ এর একটি টকশোতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব দাবি করেন, “ছাত্রশিবিরের এক সময়ের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ, উনি পরিষ্কার দুয়েকটা বক্তব্যে বলেছেন, আমার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলে যত অস্ত্র আছে সেটা দিয়ে আমি রাজশাহী পুলিশকে দুইদিন টিকায় রাখতে পারি।”

গত ৩০ নভেম্বর ফেস দ্য পিপলের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত প্রায় ১ ঘন্টা ৬ মিনিটের উক্ত টকশোর ৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড সময়ে হাবিবুর রহমানের উক্ত মন্তব্যটি শোনা যাবে। দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে নিয়ে করা হাবিবুর রহমানের মন্তব্যটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০০৬ সালে এক সমাবেশে মাসুদ শিবিরের বিরোধী পক্ষের চ্যালেন্জ হিসেবে উক্ত মন্তব্য করেন যা তার নিজের মন্তব্য হিসেবে প্রচার হচ্ছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Shibir Jagannathpur Upazila’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে মাসুদের এ সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত বক্তব্যে মাসুদকে বলতে দেখা যায়, “সে সময় রাজশাহীর ত্রাশ, যারা প্রশাসনকে চ্যালেন্জ করেছিল যে পুরো রাজশাহী ইউনিভার্সিটি লাগবে না, রাজশাহী ইউনিভার্সিটির একটা হল, শুধু শেরেবাংলা হলে আমাদের যে অস্ত্র আছে, সে অস্ত্র দিয়ে রাজশাহীর পুরো প্রশাসনকে আমরা এক সপ্তাহ চ্যালেন্জ করতে পারবো। সুতরাং, ছাত্রশিবির তো, প্রশ্নই উঠে না, ছাত্রশিবিরকে তো আমরা পাত্তাই দেই না। এটা দুই মিনিটের ব্যাপার। পুরো রাজশাহীর প্রশাসনকে এক সপ্তাহের চ্যালেন্জ করার ক্ষমতা রাখতো তারা।”

ভিডিওর ২ মিনিট সময় থেকে আলোচিত মন্তব্যটি পাওয়া যায়। ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০৬ সালের ০৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশে এ বক্তব্য দেন তিনি।

অর্থাৎ, এটি পরিষ্কার যে, আলোচিত বক্তব্যটি শিবিরকে উদ্দেশ্য করে নয়, তিনি বলেছিলেন শিবিরের বিরোধী পক্ষে চ্যালেন্জ হিসেবে।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ২০০৬ থেকে ২০০৭ সালে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পূর্বে ২০০২ থেকে ২০০৩ সালে ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন তিনি।

সুতরাং, বিরোধী পক্ষকে উদ্দেশ্য করে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের দেওয়া ২০০৬ সালের বক্তব্যকে তার নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: