অন্তত ২৩ জুন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, ময়মনসিংহে দীপু দাসকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছিল যে আব্দুল শাহাদাত, পাবনায় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ সংক্রান্ত দাবির সাথে তার লাশের একটি ছবিও প্রচার করা হচ্ছে৷
এই দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
একই দাবিতে ভারতীয় প্রোফাইলের পোস্ট দেখুন এখানে।
একই দাবির পোস্ট দেখুন এক্স, ইনস্টাগ্রামে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পাবনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু হওয়া আব্দুল শাহাদাৎ দীপু দাস হত্যা মামলার অভিযুক্ত নয়৷ প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ভুয়া এই দাবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে একই ছবিটি জাতীয় দৈনিক খবরের কাগজের গত ১৮ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর বাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহাদাৎ (৩০) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
বিডিনিউজ২৪ এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিহত শাহাদাৎ উপজেলার কদমডেঙা গ্রামের বাসিন্দা এবং দেবোত্তর বাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আকুল স্টোর’ এর কর্মী ছিলেন।
শাহাদাৎ এর নিহতের খবর সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে দীপু দাস হত্যার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি৷
পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানতে ‘আকুল স্টোর’ এর মালিক দোকানের মালিক মোহাম্মদ আকুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে বলেন, “শাহাদাৎ আমাদের ভাগিনা। তার বাড়ি পাবনা জেলাতেই। প্রচারিত দাবিটি ভুয়া। সে গত তিন-চার বছরে ময়মনসিংহের দিকে যায়নি।”
ময়মনসিংহের ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় গত বছর ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে কারখানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এই মামলায় সর্বশেষ গত ১৮ মে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সে সময় ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
দাবিটির বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবদুল্লাহ আল মামুন রিউমর স্ক্যানারকে বলেন, এরকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নাই। এখন পর্যন্ত বলা যায় এটি ভুয়া।
সুতরাং, পাবনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু হওয়া আব্দুল শাহাদাৎ দীপু দাস হত্যা মামলার অভিযুক্ত শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Khaborer Kagoj: পাবনার আটঘরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
- Prothom Alo: ময়মনসিংহে শ্রমিক দীপু দাস হত্যায় আরও তিন আসামি গ্রেপ্তার
- Statement


