রামিসা হত্যার ঘটনায় শরিয়াহ আইন জড়িয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর নামে ভুয়া মন্তব্য প্রচার

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা পাশের ফ্ল্যাটে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরই প্রেক্ষিতে, ‘শরীয়াহ আবেগ দিয়ে চলে না। শরীয়াহ আইনে ধর্ষন প্রমানের জন্য ৪ জন সাক্ষী অত্যাবশ্যক। যেটা শিশু রামিসার ধর্ষনের ক্ষেত্রে নেই আপাতত।’ শিরোনামে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহর মন্তব্য দাবিতে তার ছবি ব্যবহার করে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত মন্তব্য করেননি শায়খ আহমাদুল্লাহ। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই উক্ত মন্তব্যটি তার নামে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ, বক্তব্যের উৎস বা প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স পাওয়া যায়নি। পোস্টগুলোতে কোথায়, কবে বা কোন প্রেক্ষাপটে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন সে সম্পর্কেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক প্রোফাইলইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করেও আলোচিত দাবির সত্যতা মেলেনি।

বর্তমানে শিশু রামিসা ধর্ষণ ইস্যু ও শরিয়া আইন নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সাধারণত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শায়খ আহমাদুল্লাহর মতো আলোচিত ব্যক্তিদের যেকোনো মন্তব্য বা ফেসবুক পোস্ট জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে প্রকাশিত হয় এবং বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায়। তবে আলোচিত বিষয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর এমন কোনো মন্তব্য করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ২০ মে শায়খ আহমাদুল্লাহ এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘সাত বছরের মেয়েও যাদের কাছে নিরাপদ না, মানুষ নয় তারা নরপিশাচ। এইসব নৃশংসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র সমাধান শরীয়া আইন।’

তবে উক্ত পোস্টে কিংবা পরবর্তী কোনো ফেসবুক পোস্ট বা ভিডিওতে শায়খ আহমাদুল্লাহকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বা শাস্তি বিষয়ে শরিয়া আইনের আলোকে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।

পরবর্তীতে, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দাওয়াহমূলক উদ্যোগ ‘ইসলামী প্রশ্নোত্তর’ এর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, শায়খ আহমাদুল্লাহ উক্ত মন্তব্য করেননি।

সুতরাং, শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘শরীয়াহ আবেগ দিয়ে চলে না। শরীয়াহ আইনে ধর্ষন প্রমানের জন্য ৪ জন সাক্ষী অত্যাবশ্যক। যেটা শিশু রামিসার ধর্ষনের ক্ষেত্রে নেই আপাতত।’ শীর্ষক মন্তব্য করেছেন বলে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: