গেল বছরের ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়াকে (মোনামী) উদ্ধৃত করে ও তার ছবি যুক্ত করে তৈরি একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয় তিনি বলেছেন, ‘নজরুল, রবীন্দ্রনাথ বা লালনকে নিয়ে আমাদের দেশে সেকুরা যত পিএইচডি ও গবেষণা করেছে, হাদী’কে নিয়ে কিন্তু এরা কেউ করবে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি-হাদীর শিক্ষক হিসেবে আমি নিজেই হাদীর উপর পিএইচডি করব।’

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷
উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে গবেষণা সংক্রান্ত এমন কোনো মন্তব্য শেহরীন আমিন ভূঁইয়া করেননি। প্রকৃতপক্ষে, কোনোপ্রকার তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তাকে উদ্ধৃত করে আলোচিত মন্তব্যটি প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রেও আলোচিত দাবিতে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে, ‘Rog Porichorja Kendro- রগ পরিচর্যা কেন্দ্র’ নামক ফেসবুক পেজে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি পোস্টে আলোচিত ফটোকার্ডটি খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত পোস্টটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতীয়মান হয় যে, আলোচিত ফটোকার্ডটি এই পোস্টে সর্বপ্রথম প্রকাশ করার মাধ্যমে প্রচারিত দাবিটির সূত্রপাত ঘটে।

‘Rog Porichorja Kendro- রগ পরিচর্যা কেন্দ্র’ পেজটির পরিচিতি অংশে উল্লিখিত পেজটির ধরণ থেকে জানা যায়, এই পেজটিতে ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়। এটি কোনো বাস্তব বা প্রকৃত খবরের পেজ নয়।
শেহরীন আমিন ভূঁইয়া এমন কোনো মন্তব্য করেছেন কিনা তা জানতে তার ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো পোস্ট বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
বরং, শেহরীন আমিন ভূঁইয়ার ফেসবুক প্রোফাইলে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি পোস্টে আলোচিত ফটোকার্ডটি সংযুক্ত করে উল্লেখ করা হয় যে, ফটোকার্ডটিতে থাকা মন্তব্যটি তিনি করেননি।
সুতরাং, শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে গবেষণা বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন বলে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Rog Porichorja Kendro- রগ পরিচর্যা কেন্দ্র – Facebook Post
- Shehreen Amin Bhuiyan – Facebook Post


