‘জামাত নেতা ডাকসুকে বেশ্যাখানা বলেছেন, হয়তো উনি জেনেই বলেছেন’ শীর্ষক মন্তব্য করেননি শেহরীন মোনামী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়াকে (মোনামী) উদ্ধৃত করে ‘জামাত নেতা ডাকসুকে বেশ্যাখানা বলেছেন, হয়তো উনি জেনেই বলেছেন- বড়রা আমাদের ভুল ধরিয়ে দেবেন এটাই তো স্বাভাবিক: আমাদের উচিত তর্কে না জড়িয়ে নিজেদেরকে সংশোধন করা’ শিরোনামে তার ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেহরীন আমিন মোনামী ডাকসু নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যকারী জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে জড়িয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে, শেহরীন আমিন মোনামীর ফেসবুক প্রোফাইল খতিয়ে দেখলেও এমন কোনো মন্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং দেখা যায়, তিনি ২৯ জানুয়ারি এই আলোচিত ফটোকার্ডের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুক একটি পোস্ট দিয়েছেন।
তিনি তার ওই ফেসবুক পোস্টে বলেন, …. ….. …… ………….. …….. ……অনেক জ্বালাময়ী একটি বক্তব্য রাখলাম। এবারে আপনারা যারা দিনে রাতে আমার নামে মিথ্যা ফটোকার্ড বানাচ্ছেন, অথবা আমি যেই স্ট্যাটাসই দেই , তা বিকৃত করে ,নিজেদের মতো করে সংবাদ করছেন, নিজেরা নিজের মতো ইন্টারপ্রেট করে নিচ্ছেন। ধরেন এটা ডিকোড করেন, করে ফটোকার্ড বানান। ধন্যবাদ শুভ রাত্রি।
এছাড়া, তার মতো আলোচিত ব্যক্তিত্ব এমন মন্তব্য করলে তা স্বাভাবিকভাবেই মূলধারার গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই বিষয়ে কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’ এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যার ফলশ্রুতিতে গত ২৬ জানুয়ারি শামীম আহসানকে দলের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর দলীয় সদস্য (রুকন) পদও স্থগিত করে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামী।
সুতারাং, ডাকসু নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যকারী জামায়াত নেতাকে জড়িয়ে শেহরিন আমিন মোনামীর নামে প্রচারিত মন্তব্যটি ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s Own Analysis
- Shehreen AminBhuiyan: Facebook Profile
- Shehreen AminBhuiyan: Facebook Post
- Prothom Alo – ডাকসু মাদকের আড্ডাখানা-বেশ্যাখানা ছিল’ বলা জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি

