শেখ হাসিনার অধীনে নিবার্চন দাবিতে আ.লীগ নেতা আমুকে উদ্ধৃত করে যমুনা টিভির প্রতিবেদনটি সাম্প্রতিক সময়ে নয়, ২০২৩ সালের

সম্প্রতি, শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম যমুনা টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদনের অংশ প্রচার করা হয়েছে যাতে সংবাদপাঠককে, ‘শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেউ ঠেকাতে বা সহিংসতার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।’ শীর্ষক সংবাদ পাঠ করতে শোনা যায়। প্রতিবেদনটির প্রচারিত অংশে দেখা যায়, রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত ১৪ দলের শান্তি সমাবেশে নেতাকর্মীরা এসব কথা বলেন।  

টিকটকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি টিকটকে প্রচারিত উক্ত দাবির ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার ২৮৪ বার। এছাড়াও ভিডিওটিতে প্রায় ৫ হাজার ৯৩ পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়াও দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওটি ২৯৭ বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, শেখ হাসিনার অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন দাবিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুকে উদ্ধৃত করে যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদনটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে রাজধানীর উত্তয়া আয়োজিত ১৪ দলের শান্তি সমাবেশ নিয়ে যমুনা টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদনের অংশবিশেষ আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদনটির বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রতিবেদনে দেখতে পাওয়া ‘উত্তরায় ১৪ দলের শান্তি সমাবেশ যে কোন সহিংসতার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে’ শীর্ষক শিরোনামের সূত্র ধরে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে Jamuna TV এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট প্রচারিত মূল প্রতিবেদনটি খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের এপ্রিলে গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সাংবিধানিক শাসন বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপি-জামাতের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজিত ১৪ দলের ওই শান্তি সমাবেশে ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু ‘শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেউ ঠেকাতে আসলে বা সহিংসতার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।’ শীর্ষক মন্তব্য করেন।

অর্থাৎ, আমির হোসেন আমুর মন্তব্যটি ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে করা হয়েছিল। যার সাথে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়াও উক্ত সমাবেশে আমির হোসেন আমুর পাশাপাশি রাশেদ খান মেননকেও দেখতে পাওয়া যায়। বর্তমানে আমু এবং মেনন দুজনেই কারাগারে রয়েছেন।

সুতরাং, আ.লীগ নেতা আমির হোসেন আমুকে উদ্ধৃত করে ‘শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’ শিরোনামে যমুনা টিভিতে ২০২৩ সালে প্রচারিত প্রতিবেদনের অংশবিশেষ সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: