শেখ হাসিনা পোস্টাল ব্যালট পেয়েছেন দাবিতে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজের নামে ভুয়া স্ক্রিনশট প্রচার

পোস্টাল ব্যালট হলো এমন একটি রাষ্ট্রীয় সুবিধা, যার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিরা ডাকসেবার মাধ্যমে ভোট প্রদান করতে পারেন। নির্বাচনে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে, ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছেছে দাবি করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের কথিত একটি পোস্টের স্ক্রিনশট অন্তত গত ১৯ জানুয়ারি থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। স্ক্রিনশট অনুযায়ী, ওই পেজ থেকে প্রাপকের স্থানে শেখ হাসিনার নাম ও ভারতের ঠিকানা উল্লেখ থাকা একটি পোস্টাল ব্যালটের ছবি প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: ইন্সটাগ্রাম, থ্রেডস

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এ ধরনের কোনো পোস্ট প্রকাশ করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, প্রযুক্তির সহায়তায় একটি ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, স্ক্রিনশটে যুক্ত শেখ হাসিনার নাম সংবলিত পোস্টাল ব্যালটের ছবিটিও অন্য একটি ব্যালটের ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

এই দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, অন্তত ১৯ জানুয়ারি থেকে উক্ত স্ক্রিনশটটি ফেসবুকে প্রচারিত হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এমন কোনো পোস্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সাধারণত এ ধরনের কোনো পোস্ট প্রকাশের পর সরিয়ে ফেলা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের (রিয়েকশন ও কমেন্ট সংখ্যা ভিন্ন এমন) একাধিক স্ক্রিনশট থাকতো। কিন্তু এক্ষেত্রে কেবল একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিনশটই বারবার প্রচারিত হতে দেখা গেছে।

এছাড়া স্ক্রিনশটটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে একটি দৃশ্যমান অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ফেসবুকের স্বাভাবিক লে-আউট অনুযায়ী পোস্টে থাকা ছবির দুই পাশের মার্জিন বা বর্ডারের দূরত্ব সমান থাকে। কিন্তু আলোচিত স্ক্রিনশটটিতে এই দূরত্ব সমান নয়।

আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, কথিত পোস্টে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটের ছবিটির সাথে গত ১৫ জানুয়ারি ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ নামের একটি স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক পেজ থেকে প্রকাশিত একটি ব্যালটের ছবির হুবহু মিল রয়েছে। উভয় ছবির কিউআর কোড এবং বারকোডের নিচের নম্বরগুলো অভিন্ন। মূলত ওই স্যাটায়ার পেজের ছবিতে থাকা নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে শেখ হাসিনার নাম বসানো হয়েছে।

তবে ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ পেজ থেকে প্রচারিত মূল ব্যালটটিও ভুয়া। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজটির নাম ‘সুইজারল্যান্ড প্রবাসী’ হলেও এর কার্যক্রম সুইজারল্যান্ড থেকে পরিচালিত হয় না এবং সেখানে বসবাসরত কোনো বাংলাদেশি এই পেজটির সঙ্গে যুক্ত নন। প্রকৃতপক্ষে, পেজটি বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্র সৃষ্টি করে স্যাটায়ারধর্মী পোস্ট করে থাকে। আলোচিত ব্যালটটিতেও ‘কামরুজ্জামান কামরুজ্জামান’ নামের একটি কাল্পনিক চরিত্র এবং সুইজারল্যান্ডের একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, শেখ হাসিনা পোস্টাল ব্যালট পেয়েছেন দাবি করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজের নামে প্রচারিত স্ক্রিনশটটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র


Share: