বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিতে আহ্বান জানাননি শেখ হাসিনা, এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি ইমেলের মাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং ভার্চুয়ালি দলীয় সভায় যুক্ত হলেও, জনসমক্ষে কিংবা ভিডিওর মাধ্যমে তার সরাসরি উপস্থিতির কোনো নজির পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের  উদ্ধৃত করে ‘আওয়ামী লীগ এর নেতা কর্মী ও সমর্থককে,আমার আহবান..যদি ভোট দেন _তবে অবশ্যই বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিবেন কারণ,,, বিএনপি ১২ তারিখে বিজয়ী হলে আবারো বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগ করবে, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করবে’ শিরোনামে ভারতীয়  মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম কলকাতার ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ হাসিনা “আওয়ামী লীগ এর নেতা কর্মী ও সমর্থককে,আমার আহবান যদি ভোট দেন তবে অবশ্যই বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিবেন কারণ, বিএনপি ১২ তারিখে বিজয়ী হলে আবারো বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগ করবে, ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করবে” এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং প্রথম কলকাতাও এরূপ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথম কলকাতা কর্তৃক প্রকাশিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম কলকাতার লোগো রয়েছে। এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে প্রথম কলকাতার ফেসবুক পেজে  প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর এর ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, প্রথম কলকাতার ফেসবুক পেজে গত ২৮ জানুয়ারি ‘বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, আমি আশা করব তারা আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। প্রকৃত বিরোধী দল ছাড়া সংসদ কখনও সংসদ হতে পারে না।’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির মিল লক্ষ্য করা যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রথম কলকাতার ডিজাইন এবং শেখ হাসিনার ছবি মিল রয়েছে। তবে, উভয়ের ফটোকার্ডে ব্যবহৃত শিরোনামের ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়াও প্রথম কলকাতার ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল রয়েছে।

অর্থাৎ, প্রথম কলকাতার এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিতে শেখ হাসিনার আহ্বান দাবিতে প্রথম কলকাতার নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: