আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় শেখ হাসিনার ভাষণ দাবিতে পুরোনো ভাষণের ভিডিও প্রচার

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় অডিও কলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইমেইলের মাধ্যমে ভারতসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তবে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি।

সম্প্রতি, সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে ‘হঠাৎ এমন কি কারণ হলো যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হলো’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে শেখ হাসিনার কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘ বিসমিল্লাহ হির রহমানির রাহীম, প্রিয় দেশবাসী, আসসালামুআলাইকুম, আমি স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমানসহ জাতীয় চার নেতাকে। স্মরণ করছি ৩০ লাখ শহিদ ও দু-লাখ নির্যাতিতা মা বোনের প্রতি। সেই সাথে স্মরণ করছি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সহ অন্যান্যদের কেও।’

তবে, ভিডিওটির ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পরে অন্য আরেকটি অডিও ক্লিপের বক্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, এমন কী কারণ হলো যে আওয়ামী লীগকে সকল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করতে হলো। এর কারণ হলো রাজনৈতিক দলকেও বিচার করা যাবে, সে আইন তারা করেছে..।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর শেখ হাসিনার দেওয়া কোনো বক্তব্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি আওয়ামীলীগ সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচন পর তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া শেখ হাসিনার ভাষণের ভিডিও।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির বিবরণ থেকে জানা যায়, এটি সে সময় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য। যমুনা টিভির ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওতে শেখ হাসিনার পরিহিত পোশাকেরও মিল রয়েছে।

তবে, দাবিকৃত ভিডিওতে শেখ হাসিনার পেছনে ভারতীয় পতাকা ও একপাশে বাংলাদেশের পতাকা সংবলিত একটি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখা গেলেও যমুনা টেলিভিশনের ভিডিওতে ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে।

আরও অনুসন্ধানে বাংলা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে নির্বাচনের পর তিনবছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া শেখ হাসিনার পূর্ণাঙ্গ ভাষণ লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়। সেখানে উল্লিখিত বক্তব্যের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়।

সুতরাং, ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া শেখ হাসিনার পুরোনো ভাষণের ভিডিও আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর বক্তব্য দেওয়ার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: