বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম প্রসঙ্গে দিল্লীতে শেখ হাসিনার ভাষণের ভিডিও দাবিতে পুরোনো ঘটনার সম্পাদিত ভিডিও প্রচার

২০২৪ সালে বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় অডিও কলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইমেইলের মাধ্যমে ভারতসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তবে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি। সাম্প্রতিক সময়ে যশোর কারাগারে বন্দি থাকা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের স্ত্রী গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা ও তার নয় মাস বয়সী শিশুসন্তানের বাগেরহাটের এক গ্রামে মৃত্যু হয়। মৃত লাশের সাথে শেষ দেখার সুযোগ করে দিতে মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে জেলগেটে নিয়ে আসা হলে তা অনলাইনে বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে, মানবিক বিবেচনায় যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পান নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এই নেতা। এরই প্রেক্ষিতে, “দিল্লী থেকে জাতির উদ্দেশে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে নিয়ে অঝোরে কেঁদে যা বললেন শেখ হাসিনা” শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে শেখ হাসিনার কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “আপনারা দেখেন সেই সাদ্দাম বাগেরহাটের, ছেলেটাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। বারবার তার জামিনের জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। সে গ্রেফতার থাকা অবস্থাতে একটা শিশু সন্তান হয়েছে। শিশুটাকে সে দেখতেও পায়নি এবং তাকে বাগেরহাটের জেলেও রাখেনি। বাগেরহাটের জেলে রাখলে তো তার পরিবার তার সাথে দেখা করতে পারতো। অন্তত ঐ শিশুটাকে তো কোলে নিতে পারতো, দেখতে পারতো। তাকে নিয়ে খুলনা জেলে রেখে দিয়েছে। তার জামিনের জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি জামিন দিবে বলে টাকাও খেয়েছে, তারপরও জামিন দেয়নি। একবার জামিন হয় তো আরেকটা মামলা দেয়। আজকে তার স্ত্রী এবং শিশুপুত্র তাদেরকে মৃত অবস্থায় ঘরে পাওয়া গেলো। দেখা গেল ফ্লোরে শিশুটা মৃত পরে আছে, ঐ ছোট্ট একটা কচি শিশু। তার মৃত্যুর জন্য দ্বায়ী কে?”

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
একই দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে নিয়ে শেখ হাসিনার দেওয়া কোনো বক্তব্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার বক্তব্যের ভিন্ন ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পাদনা করে তাতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক একটি অডিও রেকর্ড যুক্ত করে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ. আরাফাতের ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার একটি অডিও রেকর্ড পাওয়া যায়। এই অডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর অডিওর মিল পাওয়া যায়।

তবে আরাফাতের ভিডিওতে শেখ হাসিনার উক্ত বক্তব্যের কোনো ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার কণ্ঠে ধারণকৃত অডিওটি চালানো হয়েছে ভিডিওতে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ৩ জুলাই প্রকাশিত একটি লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সাথে শেখ হাসিনার পোশাক এবং সামনের মাইক্রোফোনের প্লেসমেন্টের মিল পাওয়া যায়। তবে, প্রচারিত ভিডিওতে শেখ হাসিনার পেছনে ভারতীয় পতাকা সংবলিত একটি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখা গেলেও বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভিডিওতে ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে।

ভিডিওটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, এটি সেসময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে নবনির্বাচিত মেয়রগণের শপথ অনুষ্ঠানের দৃশ্য।
সুতরাং, ২০২৩ সালের শেখ হাসিনার পুরোনো ভিডিও সম্পাদনার মাধ্যমে বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে নিয়ে দিল্লী থেকে শেখ হাসিনার ভাষণের ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Voice of Professor Arafat: YouTube Video
- Bangladesh Television: YouTube Live

