রামিসা হত্যা ইস্যুতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দাবিতে  পৃথক ভিডিও ও অডিও যুক্ত করে প্রচার

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা পাশের ফ্ল্যাটে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরই প্রেক্ষিতে ‘দিল্লী থেকে জাতির উদ্দেশে “শিশু রামিসার” কথা বলতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে যা বললেন শেখ হাসিনা!’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়৷

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি টিকটকে প্রচারিত সর্বাধিক ভাইরাল ভিডিওটি প্রায় ৮৩ হাজার বার দেখা হয়েছে, এটিতে প্রায় ৩ হাজার পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং ভিডিওটি প্রায় ২ শত বার শেয়ার করা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিটির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালের মার্চে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিভিন্ন ফেলোশিপ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক/ প্রকল্প পরিচালকদের বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠান’ শিরোনামে প্রচারিত একটি সরাসরি সম্প্রচারের ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর কিছু অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির ৪২:০৫ সেকেন্ড থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রদান শুরু হয়। তার বক্তব্যের ভিন্ন ভিন্ন কিছু অংশকে যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

উক্ত বক্তব্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাসকে ভিত্তি করে ১৯৭১ সালে এই মাসের বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ দিনের ঘটনাবলী, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের অবকাঠামোগত ও নানাবিধ উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান এবং ১৯৭৫ সালে সপরিবারে শেখ মুজিবের হত্যার বিষয়ে কথা বলেন। পরবর্তীতে তিনি দেশের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা এবং গবেষণার খাতের ধারাবাহিক পরিস্থিতি ও গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।

পরবর্তীতে, এ বিষয়ে জাগো নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

উল্লিখিত অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সাথে আলোচিত ভিডিওটির অডিও ফুটেজের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, ২০২৪ সালের উক্ত অনুষ্ঠানটির ভিডিও ফুটেজে ভিন্ন একটি অডিও ক্লিপ যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

তাছাড়া, আলোচিত ভিডিওটির অডিও অংশে শেখ হাসিনার বক্তব্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো কথা বলা হয়নি।

সুতরাং, রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্যের ভিডিও দাবিতে ২০২৪ সালের একটি ভিডিওতে ভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক অডিও ক্লিপ যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: