নির্বাচন নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য দাবিতে জনকণ্ঠের সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি, ‘আমিই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষ নির্বাচন চায় না। তারা প্রত্যাখ্যান করেছে’ শিরোনামে জনকণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ )।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে ‘আমিই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষ নির্বাচন চায় না। তারা প্রত্যাখ্যান করেছে’ শিরোনামে দৈনিক জনকণ্ঠ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, জনকণ্ঠ কর্তৃক প্রচারিত ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ডিজাইন প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে জনকণ্ঠের লোগো, শেখ হাসিনার ছবি রয়েছে। তবে, প্রকাশের তারিখ উল্লেখ নেই।
উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, জনকণ্ঠের ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, অন্য কোনো গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির বিষয়ে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজে গত ১৭ অক্টোবর ‘শেখ হাসিনার ১৪০০ বার মৃ’ত্যুদণ্ডের দাবি’ শীর্ষক তথ্য বা শিরোনাম সংবলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতীত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। জনকণ্ঠের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘শেখ হাসিনার ১৪০০ বার মৃ’ত্যুদণ্ডের দাবি’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে `আমিই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষ নির্বাচন চায় না। তারা প্রত্যাখ্যান করেছে’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।
অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে দৈনিক জনকণ্ঠের ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল ফটোকার্ড সংবলিত জনকণ্ঠের পোস্টে মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। গত বছর শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমনপীড়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ দাবি তোলা হয়েছে- যে আন্দোলনের পরই তিনি ক্ষমতা হারান। ভারতে পালিয়ে থাকা হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে। ফাঁস হওয়া একটি অডিও ক্লিপে শোনা গেছে, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে “প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার” করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে হাসিনা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতায় প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়- যা ছিল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেন, “হাসিনা ১,৪০০টি মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য। কিন্তু যেহেতু তা বাস্তবে সম্ভব নয়, তাই অন্তত একটি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানাচ্ছি।”
সুতরাং, শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে ‘আমিই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষ নির্বাচন চায় না। তারা প্রত্যাখ্যান করেছে’ শিরোনামে জনকণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Janakantha- Facebook Page
- Janakantha- Website
- Janakantha- YouTube Channel
- Janakantha- Facebook Post
- Janakantha- শেখ হাসিনার ১৪০০ বার মৃত্যুদণ্ডের দাবি
- Rumor Scanner’s Own Analysis

