শেরপুর-৩ উপ-নির্বাচনে বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতা নিহতের ভুয়া দাবি

গত ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ চলাকালে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত তিনজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, বিএনপির হামলায় জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলার সেক্রেটারি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে, সংসদ সদস্য হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে শেরপুর থেকে প্রাপ্ত তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে জামায়াতের এক দায়িত্বশীল ব্যক্তির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেরপুর নির্বাচনে বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতার নিহত হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, উক্ত জামায়াত নেতা আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পেজে ১০ এপ্রিল প্রকাশিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘শেরপুরে নির্বাচন চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আহত হন এবং শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি গুরুতর আহত হয়ে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর যে তথ্য প্রচারিত হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে যাচাই করে তা সঠিক নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংসদে শেরপুরের নির্বাচনে জামায়াত নেতার মৃত্যুর খবর বলা সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের একটি ফেসবুক পেজে সংশোধন করে পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ তার বক্তব্য প্রদানকালে শেরপুর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্ত একটি তথ্যের ভিত্তিতে জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মৃত্যুবরণ করেছেন মর্মে কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে যাচাই করে জানা যায়, উক্ত তথ্যটি সঠিক ছিল না। মূলত শহীদ রেজাউল হত্যার তথ্য ভুলভাবে পৌঁছানোয় এই বিভ্রাট হয়েছে। সঠিক তথ্যটি গ্রহণ করে বিষয়টি সংশোধন করে নেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এছাড়া, মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে আলোচিত দাবিটির পক্ষে সমর্থনযোগ্য কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত কালবেলা’র একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে কেন্দ্র এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত তিনজন আহত হন এবং তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সুতরাং, শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে বিএনপির হামলায় জামায়াত নেতার মৃত্যুর দাবিটি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: