শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের সময় জামায়াত নেতার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর দাবিটি ভুয়া

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর–৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। এর প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম যমুনা টেলিভিশনের লোগো সংবলিত দুটি ফটোকার্ড প্রচারিত হতে দেখা যায়। প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোতে দাবি করা হয়, ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের সময় তিনি হার্ট অ্যাটাক করে ইন্তেকাল করেছেন/নিহত হয়েছেন।

এমন দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ফটোকার্ড দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত শিরোনামগুলোতে যমুনা টেলিভিশন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। এছাড়াও মাওলানা রেজাউল করিমের হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যকার সংঘর্ষে গুরুতর হন এবং পরবর্তীতে মারা যান।
আলোচিত ফটোকার্ডগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানে যমুনা টেলিভিশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে আলোচিত শিরোনামগুলোতে কোনো ফটোকার্ড প্রচারিত হতে দেখা যায়নি। এছাড়াও উক্ত গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ঝিনাইগাতীর সংঘর্ষে মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমটি দুটি ফটোকার্ড (১, ২) প্রকাশ করেছে যার কোনোটির সাথেই আলোচিত দাবির মিল নেই। কিন্তু একটিতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোর মত তার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সেটিতে উল্লেখ করা হয়, শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়েছে।

উক্ত ফটোকার্ডের মন্তব্যের ঘর থেক প্রাপ্ত মূল প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একমঞ্চে সকল প্রার্থীর ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে জামাতের সমর্থকরা অনুষ্ঠানের সকল চেয়ারে বসে পড়ে। এ সময় বিএনপি’র সমর্থকরা চেয়ার না পেয়ে বাক’বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে যা এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরবর্তীতে দুই দলের নেতাকর্মীরা ফের সংঘর্ষে জড়ায়। এসময় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ হাসপাতাল নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়।
প্রতিবেদনটিতে শেরপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলামমের বরাতে জানানো হয়, মাওলানা রেজাউল করিম মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন।
এঘটনায় বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেরপুরের শ্রীবরদী থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল লতিফের বরাতেও জানানো হয়, রেজাউল করিম বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত হন।
পাশাপাশি প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মারা যান।
সুতরাং, ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের সময় জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়ার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং যমুনা টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোও ভুয়া।
তথ্যসূত্র
- Jamuna Television Facebook Post
- Jamuna Television Website: শেরপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি নিহত
- BBC বাংলা Website: শেরপুরে ‘আগে চেয়ারে বসা’ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, জামায়াত নেতা নিহত
- Prothom Alo Website: শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু
- Rumor Scanner’s Analysis

