সাংবাদিকদের ওপর স্বেচ্ছাসেবক দলের হামলার ভিডিওকে শিবিরের হামলা দাবিতে প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ‘বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সাদেক কাইয়ুম কে সাংবাদিকরা রা’জাকার, আল বদর, আল শামসদের বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করলে শি’বিরের প্র’শিক্ষিত ক্যাডাররা সাংবাদিক এর উপর নেক্কারজনক হা’মলা চালায়’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত সবচেয়ে ভাইরাল ফেসবুক পোস্টটি ১১ লক্ষেরও অধিক বার দেখা হয়েছে এবং ৬ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটিতে প্রদর্শিত সাংবাদিকদের ওপর হামলার সাথে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রকৃতপক্ষে, গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সাংবাদিকদের ওপর স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকদের হামলার ঘটনাকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ‘যুগান্তর’ এর ইউটিউব চ্যানেলে ‘বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সাংবাদিকদের ওপর হা’মলা চালালো স্বেচ্ছাসেবক দল’ শিরোনামে গত ১৪ ডিসেম্বরে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

এরই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে ‘যুগান্তর’ এর ওয়েবসাইটে একইদিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে কয়েকটি ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায় যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের মিল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সাংবাদিকদের ওপর বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ (১৪ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক এই হামলা চালায়। এতে অন্তত ৫ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।’ এছাড়াও, আরো একাধিক গণমাধ্যম সূত্রেও একইরকম তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে হামলায় আহত হওয়া দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক ফখরুল ইসলামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ১৪ ডিসেম্বরে প্রচারিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে মূল ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সোহাগ নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে ফুটেজ ধারণে বাধা সৃষ্টি করেন। এ সময় আমাদের যুগান্তরের ফটো জার্নালিস্ট ডালিম ভাইসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা তাকে সৌজন্যপূর্ণভাবে একটু সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। কিন্তু অনুরোধ উপেক্ষা করে সোহাগ সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হঠাৎ সোহাগ ও তার সঙ্গে থাকা উশৃঙ্খল কর্মীরা ডালিম ভাইয়ের ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন, আমার শার্ট ধরে টেনে হিঁচড়ে সব ডিভাইস ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া সময়ের আলোর সিনিয়র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার শ্রাবণকে আঘাত করে সোহাগ।’ এছাড়াও ফখরুল ইসলাম তার পোস্টে আরো উল্লেখ করেন, ঘটনার পর স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতা হাফিজ দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন।

পাশাপাশি, হামলার ঘটনায় মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তাদের বিজ্ঞপ্তি থেকেও হামলাকারীরা স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মী বলে জানা যায়।

সুতরাং, গত ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সাংবাদিকদের ওপর স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকদের হামলার ঘটনার দৃশ্যকে সাংবাদিকদের ওপর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের হামলা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: