আ.লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সোহেল তাজের মিছিল দাবিতে পুরোনো ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার 

সম্প্রতি অনলাইনে একটি কথিত সংবাদ প্রতিবেদন প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘আ.লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংসদ ঘেরাও করে পুলিশের সামনে সোহেল তাজের হুশিয়ারি’।

এরূপ দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টটি এককভাবে প্রায় ২ লক্ষ বার দেখা হয়েছে এবং ১০ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটিতে লাইক দেওয়া হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সোহেল তাজের মিছিলের দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি ২০২৩ সালের ২ নভেম্বরে ১০ এপ্রিলকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনসহ তিন দফা দাবিতে মিছিল ও গণভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘটনার দৃশ্যকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত মিছিলের দৃশ্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ‘নিউজ২৪’ এর ইউটিউব চ্যানেলে ‘৩টি দাবি নিয়ে গণভবনের সামনে সোহেল তাজের অবস্থান’ শিরোনামে ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বরে প্রচারিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে সংযুক্ত সোহেল তাজের মিছিলের দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনসহ ৩টি দাবি নিয়ে গণভবনের সামনে অবস্থান করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমাদ সোহেল তাজ। বৃহস্পতিবার (২০২৩ সালের ২ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে থেকে পদযাত্রা নিয়ে গণভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তিনি।’ এছাড়াও, উক্ত ঘটনার ভিডিও সেসময়ে আরো নানা গণমাধ্যমেও প্রচার হতে দেখা যায়।

এরই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো’র ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন দফা দাবিতে গণভবনের সামনে ২০২৩ সালের ২ নভেম্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সোহেল তাজ। দাবিগুলো তুলে ধরে সেদিন সোহেল তাজ বলেন, যেহেতু ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। সেদিন বাংলাদেশ স্বাধীন–সার্বভৌম রাষ্ট্র (প্রজাতন্ত্র) হিসেবে জন্ম লাভ করে। তাই এই দিনকে ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ ঘোষণা করতে হবে। ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে এবং জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সব বেসামরিক ও সামরিক সংগঠক, পরিচালক, অমর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, অবদান ও জীবনীসহ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে সর্বস্তরের পাঠ্যপুস্তকে ও সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

একই তথ্য আরো একাধিক গণমাধ্যম সূত্রেও জানা যায়। উল্লেখ্য যে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওতে ‘আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ, মানি না মানবো না’ শোনা গেলেও সোহেল তাজের কর্মসূচির উপরোক্ত আসল ভিডিওগুলোতে এমন কোনো স্লোগান শোনা যায়নি। এছাড়াও, সোহেল তাজের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে তার তিন দফা দাবিগুলো লেখা থাকলেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর থাম্বনেলে তা সম্পাদনা করে শেখ হাসিনার ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে।

সুতরাং, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সোহেল তাজের মিছিলের দৃশ্য দাবিতে পুরোনো ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: