ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখে আজ বৃহস্পতিবার সকালে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়। এরই প্রেক্ষিতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ফেসবুকে আরেকটি দাবিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখান, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে।
উক্ত দাবিতে সংবাদ প্রকাশ করে পরে সরিয়ে নিয়েছে এমন গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাভিশন, মানবকণ্ঠ, বাংলানিউজ২৪।

ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলতাফ হোসেন চৌধুরী কিংবা খন্দকার মোশাররফ হোসেন নয়, চলতি সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংক্রান্ত দাবি
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের ইউটিউব চ্যানেলে আজকের অধিবেশনের লাইভ ফুটেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বক্তব্য পাওয়া যায়। ভিডিওর ১৭ মিনিট সময়ে তাকে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করতে দেখা যায়। এরপরই খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাবকে সমর্থন জানান সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। এরপরই সভাপতির পদে বসেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মূলত, সভাপতি পদটিকেই স্পিকার ধরে নিয়ে এ সংক্রান্ত দাবিটির সূত্রপাত। যদিও গতকালই জানা গিয়েছিল যে স্পিকারের আগে সভাপতি নির্বাচন করা হবে। গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলন করে প্রথম দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যেহেতু বিদায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নেই, তাই তারা স্পিকারের আসনটি খালি রেখে অধিবেশন শুরু করবেন। প্রথমে একজন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করবেন। এরপর সংসদ নেতা এই সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। কোনো একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। এরপর ওই সদস্য (যার নাম প্রস্তাব করা হবে) সভাপতিত্ব করবেন। এরপর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। শোক প্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং জুলাই যোদ্ধাদের সম্পর্কে আলোচনা হবে।
অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের ইউটিউব চ্যানেলে আজকের অধিবেশনের লাইভ ফুটেজে সংসদের স্পিকার নির্বাচনের অংশটিও পাওয়া যায়৷ স্পিকার পদে নির্বাচনের জন্য একটিমাত্র মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানান সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য (ভোলা–৩) মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করা হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দুপুর ১২টার পরে এই শপথ পড়ানো হয়। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এই শপথ পড়ানো হয়।
অর্থাৎ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন নয়, স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী সংক্রান্ত দাবি
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের নিয়ে গতকাল বৈঠক করেছেন দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন এমপি সময়ের আলোকে জানান, আলতাফ হোসেন চৌধুরীই স্পিকার হচ্ছেন। তার নামই বৈঠকে আলোচনায় ছিল। মূলত এরপরই ছড়াতে থাকে যে, আলতাফ হোসেন চৌধুরীই হচ্ছেন স্পিকার। অনেক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টিকে সিদ্ধান্তমূলক হিসেবেও উপস্থাপন করতে দেখা যায়।
অর্থাৎ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী নয়, স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সুতরাং, আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন শীর্ষক পৃথক দুইটি দাবি প্রচার হচ্ছে ইন্টারনেটে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Bangladesh Parliament: Live Video
- Somoyer Alo: সংসদের স্পিকার হচ্ছেন আলতাফ চৌধুরী


