তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নামে ভুয়া বক্তব্য প্রচার

সম্প্রতি ‘সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দিলো আইনমন্ত্রী’ শীর্ষক থাম্বনেইল ব্যবহার করে একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করা হচ্ছে।

ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে(আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কর্তৃক সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দেওয়ার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয় বরং ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সংযুক্ত করে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ভিডিওটি তৈরি করে কোনোপ্রকার তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই উক্ত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।

গত ১৩ এপ্রিল Sabai Sikhi নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহালের ঘোষণায়, রেগে বহিস্কারের নির্দেশ’ শীর্ষক শিরোনাম এবং ‘সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দিল আইনমন্ত্রী’ শীর্ষক থাম্বনেইল ব্যবহার করে উক্ত ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।

অনুসন্ধানের শুরুতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। এতে দেখা যায়, এটি ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি ঘটনার ছবি ও ভিডিও ক্লিপ নিয়ে তৈরি একটি নিউজ ভিডিও। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনের সময়কার কয়েকটি ছবি দেখা যায়।

১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে বলা হয়, এবার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দিলো আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান এই আইনমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই আইনটি সংশোধন করা হবে। আগামী তিনমাসের মধ্যেই এই আইন পুনরায় বহাল করা হবে বলে জানান এই আইনমন্ত্রী। এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণায় খুশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। এরফলে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যাতে ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে পারে।

উক্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক একাধিক কি ওয়ার্ড সার্চ করেও উক্ত দাবিগুলোর কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে, ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার কয়েকটি আলাদা ছবি এবং ভিডিও যুক্ত করে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যসূত্র ছাড়াই দাবিগুলো প্রচার করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ভিডিওটির কি ফ্রেম কেটে কয়েকটি স্থিরচিত্র নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা যায় ভিডিওটি শুরুর ১৬ সেকেন্ড গত ২১ জানুয়ারি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী’ শীর্ষক শিরোনামে মোহনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত প্রতিবেদনের(আর্কাইভ) সাথে মিল পাওয়া যায়।

এছাড়াও ভিডিওটি থেকে নেওয়া কিছু স্থিরচিত্র রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে দেখা যায় সেগুলো অনেক পুরোনো প্রতিবেদন থেকে নেওয়া ছবি। ভিডিওটির ১ মিনিট ৩ সেকেন্ডের সময় প্রদর্শিত একটি ছবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানাকে কান্নারত অবস্থায় আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। তবে রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে উক্ত ছবিটি প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট ‘বেঁচে আছে শুধু দুই বোন’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে নেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার কয়েকটি ছবি এবং ভিডিও সংযুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

পাশাপাশি মূল ধারার গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো সূত্রে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কর্তৃক সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দেওয়ার দাবির সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও, উক্ত দাবিতে প্রচারিত ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৮ এপ্রিল ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য সংবিধান সংশোধনের ঘোষণা দিলো আইনমন্ত্রী আনিসুল হক’ শীর্ষক শিরোনামে প্রায় একই ধরনের আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

মূলত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কর্তৃক সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে দাবি করে একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দেননি।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে পূর্বেও একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কর্তৃক সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: