রাজনীতি না করার শর্তে তারেক রহমানের দেশে আসা এবং স্ত্রীকে তালাকের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার 

সম্প্রতি, “রাজনীতি না করার শর্তে দেশে আসছেন তারেক জিয়া হঠাৎ বউ তালাক দিয়ে একি সিদ্ধান্ত অবাক সবাই” শীর্ষক থাম্বনেইলে ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। 

স্ত্রীকে তালাক

ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনীতি না করার শর্তে দেশে আসা কিংবা তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়া সংক্রান্ত কোনো তথ্য তারেক রহমান কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি বরং ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার একাধিক ভিডিও ক্লিপ যুক্ত করে কোনো প্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। 

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটি ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি ঘটনার ভিডিও ক্লিপ এবং ছবি নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রতিবেদন, যেখানে দাবিটি প্রসঙ্গে তারেক রহমান, ভয়েস বাংলার প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা ফিরোজ এবং একটি সংবাদ প্রতিবেদনের ভিডিও দেখানো হয়।

ভিডিও যাচাই – ০১

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে থাকা প্রথম ভিডিওটির অনুসন্ধানে Voice Bangla নামক ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৬ ডিসেম্বর “ভোটের বিপক্ষে কেন প্রচার করা যাবে না? সংবিধানে কোথায় লেখা আছে?।Mostofa Feroz। Voice Bangla” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটিতে যুক্ত প্রথম ভিডিওটির হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ভিডিওটিতে ভয়েজ বাংলার প্রতিষ্ঠাতা এবং সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পাঠ করে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন।

ভিডিও যাচাই – ০২

দ্বিতীয় ভিডিওটির অনুসন্ধানে কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে ‘Channel Europe’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে “মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বউ তালাক দিলেন আ.লী নেতা” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদনের একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওতে থাকা দ্বিতীয় ভিডিওটির হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। 

উক্ত সংবাদ প্রতিবেদনে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার চরবানি পাকুড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বলা হয়।

অর্থাৎ এই ভিডিওটিকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে আলোচিত দাবিতে যুক্ত করা হয়েছে।

ভিডিও যাচাই – ০৩

আলোচিত ভিডিওটিতে সবশেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি ভিডিও বার্তা দেখানো হয়।

উক্ত ভিডিওটির অনুসন্ধানে কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটিতে থাকা তারেক রহমানের ভিডিওটির হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। 

ভিডিওটির বিস্তারিত বর্ণনা থেকে জানা যায় গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসী এবং নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বক্তব্য দেন তারেক রহমান।

উক্ত ভিডিওটিকে কোনো প্রকার প্রাসঙ্গিকতা ছাড়াই আলোচিত ভিডিওটিতে যুক্ত করা হয়েছে।

অর্থাৎ প্রচারিত ভিডিওটিতে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার যে ভিডিও ক্লিপগুলো যুক্ত করা হয়েছে সেগুলোতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনীতি না করার শর্তে দেশে ফেরা এবং স্ত্রীকে তালাক দেওয়া বিষয়ক কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, বাংলাদেশের মূলধারার কোনো গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে আলোচিত দাবিগুলো প্রসঙ্গে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং সেনাবাহিনীর অধীনে নির্বাচন করার দাবিতে বিএনপি-জামায়াতসহ আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করে আসছে। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইন্টানেটে নানা ধরনের তথ্য প্রচার হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইন্টানেটে “রাজনীতি না করার শর্তে দেশে আসছেন তারেক জিয়া হঠাৎ বউ তালাক দিয়ে একি সিদ্ধান্ত অবাক সবাই” শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত দাবিগুলো সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, অধিক ভিউ পাবার আশায় ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ এবং ছবি যুক্ত করে তাতে চটকদার থাম্বনেইল ও শিরোনাম ব্যবহার করে কোনোপ্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিগুলোর সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার হবার পর জামিন পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যান। সেখানে তিনি এখন স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন বলে জানা যায়।

সুতরাং, রাজনীতি না করার শর্তে তারেক রহমানের দেশে আসা এবং স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যগুলো মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র 

Share: