প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাকিব আল হাসানকে কোনো হুঁশিয়ারি দেননি

সম্প্রতি “এবার সাকিব আল হাসানকে কড়া হুঁশিয়ার দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা” শীর্ষক শিরোনামে একটি তথ্য শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটকে প্রচার করা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ

টিকটকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি ভিডিওটিতে প্রায় ২৮ হাজার ৭০০ পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং শেয়ার করা হয়েছে ৩৬৬ বার। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের খণ্ডাংশের সাথে ভিন্ন আরেকটি ঘটনার ভিডিও এবং সাকিব আল হাসান ও ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের একাধিক ছবি সহ তাতে চটকদার শিরোনাম যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

দাবিটি নিয়ে অনুসন্ধানের শুরুতেই আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ভিডিওর শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভিডিওর খণ্ডাংশ দেখানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধানে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে সময় টিভি’র ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর “ক্ষমতায় এলে দেশে ফিরিয়ে এনে তারেক রহমানের বিচার হবে: শেখ হাসিনা | PM Sheikh Hasina | Election 2024” শীর্ষক শিরোনামে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশই আলোচিত দাবিতে যুক্ত করা হয়েছে। 

উক্ত ভিডিও থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে বসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিচ্ছে। আগামী নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হলে তাকে ধরে এনে বিচার করা হবে।”

ভিডিওর পরবর্তী অংশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরও একটি ভিডিও দেখানো হয়। ভিডিওটির অনুসন্ধানে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে সময় টিভির আরেক ইউটিউব চ্যানেলে সময় টিভি বুলেটিন এ গত ২ জানুয়ারি “ফরিদপুরে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা | Sheikh Hasina” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশই আলোচিত দাবিতে যুক্ত করা হয়েছে। 

ভিডিওতে সেসময় মাগুরা-১ আসনে নৌকা প্রার্থী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “সাকিব বক্তৃতা করতে পারে না, বক্তৃতা করার দরকার নেই। তুমি শুধু বলবা তুমি ছক্কা মারতে পারো ও উইকেট নিতে পারো।”

অর্থাৎ, ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাকিব আল হাসানকে দেখা গেলেও ভিডিওতে আলোচিত দাবি প্রসঙ্গে কোনো দৃশ্য বা তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

মূলত, ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের দুবাইয়ে গিয়ে বাংলাদেশের পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খানের জুয়েলারি শপ উদ্বোধন করতে যাওয়ার বিষয়ের সমালোচনা করেন এবং ভিডিওতে ভিডিও বার্তার কিছুদিন পূর্বে সাকিবের বিরুদ্ধে তাকে হামলা চেষ্টা করার অভিযোগ করেন। পরবর্তী উক্ত বিষয়টি ব্যাপক ভাইরাল হয়। গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সাকিব আল হাসান ও সায়েদুল হক সুমন এমপি নির্বাচিত হলে তাদের ঐ পুরোনো দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত ভিডিওগুলো সামাজিক মাধ্যমে পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ‘সাকিব আল হাসানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। তবে রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিন্ন ঘটনার একাধিক ভিডিও এবং ছবি যুক্ত করে তাতে চটকদার শিরোনাম যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে।

সুতরাং, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীর্ষক দাবিতে টিকটকে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র

Share: