এসএসসির প্রশ্নফাঁস গুজব: টেলিগ্রাম বট কারসাজিতে চলছে প্রতারণা

সম্প্রতি, একাধিক ভিডিওতে দাবি করা হয়, গত ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে। বিশেষত, পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে এসে পরীক্ষার আগের রাতের কিছু মেসেজ গ্রুপটিতে দেখতে পান, যেখানে প্রশ্ন দেওয়া ছিল। মেসেজগুলোয় কোনো Edited লেবেল না থাকা অনেকেই বিষয়টিকে সত্য হিসেবে ধরে নিয়ে সমালোচনায় অংশ নেন। রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছে, আলোচিত দাবিটি ভুয়া। টেলিগ্রামের গ্রুপটিতে বট আইডির মাধ্যমে পূর্বে দিয়ে রাখা মেসেজ পরীক্ষার পরে প্রশ্নের ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে যুক্ত করে এই গুজবটি প্রচার করা হয়। বট আইডির ক্ষেত্রে edited লেবেল দেখা না যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই প্রতারণার কৌশল বেছে নেন। 

যেভাবে ছড়ালো টেলিগ্রামে প্রশ্ন ফাঁসের দাবি

গত ২৫ এপ্রিল ‘সময় টেলিভিশন’ এক ভিডিও প্রতিবেদনে দাবি করে এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে টেলিগ্রামে৷ একজন পরিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে বলা হয়, টেলিগ্রামে ‘সকল বোর্ড প্রশ্ন ২০২৬’ নামের একটি গ্রুপে টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থী বলছিলেন, “পরীক্ষার আগের দিন গ্রুপে মেসেজ দিয়েছিল যে আজ রাত ১১ টার দিকে প্রশ্ন দেওয়া হবে।” পরে তিনি রাতে গ্রুপে দেখেন, প্রশ্ন দেওয়া হয়নি। বলেছে যে, কোনো এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রশ্ন দিতে পারছে না। ওই শিক্ষার্থী জানান, পরের দিন পরীক্ষা দিয়ে আসার পর ওই গ্রুপে গিয়ে দেখেন, ওই চ্যানেলে আরেকটা চ্যানেলের লিংক দেওয়া আছে। ‘সকল বোর্ড প্রশ্ন ২০২৬’ নামের ওই গ্রুপে তিনি দেখতে পান, ২০ এপ্রিল রাত ১১ টা ২৪ মিনিটে তাদের দিনাজপুর বোর্ডের প্রশ্ন দেওয়া আছে। তিনি তখন মিলিয়ে দেখেন তাদের প্রশ্নের সাথে হুবহু মিল রয়েছে টেলিগ্রামে থাকা প্রশ্নটির। পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিলের বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার আগে প্রশ্ন দেওয়ার প্রলোভনে টাকা দাবি করা হয় গ্রুপে।

এই পরীক্ষার্থীর পরিচয় শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট। তবে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ করা হলো না। তার ফেসবুক প্রোফাইলে এক ভিডিওতে ২৩ এপ্রিল তিনি এ বিষয়ে প্রথম অভিযোগ করেন। তিনি ভিডিওতে একটি বিকাশ নাম্বারের বিষয়ে বলেছেন যেটি Tarin Sultana Tori নামে একটি ভেরিফাইড প্রোফাইল থেকে তাকে দেওয়া হয়েছিল। এই চক্রটি প্রশ্ন প্রতি ৬০০০ টাকা চাচ্ছিলো এই আইডি থেকে।

ওই পরীক্ষার্থীর টেলিগ্রাম আইডি থেকে Ismail Hossain Prince নামের এক ব্যক্তিও ২৪ এপ্রিল একই দাবি সংক্রান্ত ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করেন।

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টাইমস টুডে’তেও ইংরেজি ১ম পত্র পরীক্ষার দিন এক পরীক্ষার্থী দাবি করেন যে, তিনি দুই হাজার টাকা দিয়ে প্রশ্ন পেয়েছেন।

এভাবেই প্রশ্ন ফাঁসের দাবিটি ছড়িয়েছে। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টিও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সুষ্টু তদন্তের দাবি করে।

সূত্র ধরে যাচাই শুরু যেভাবে

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ‘সময় টিভি’কে সাক্ষাৎকার দেওয়া আলোচিত সেই পরীক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার। তিনি জানান, তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে বাংলা ২য় পত্র পরীক্ষার প্রশ্ন পেতে টাকা জোগাড় করে টেলিগ্রাম গ্রুপটিতে দেওয়া একটি বিকাশ নাম্বারে ১১ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। তবে টাকা পাঠানোর পর তাদের সেখান থেকে প্রশ্ন না দিয়েই ব্লক করে দেওয়া হয়। “তবে, যতদূর সম্ভব ওখানে ১৪০ অব্দি সিরিয়াল নাম্বার ছিলো। কিন্তু হাতে গনা কয়েকজনকে ব্যন্ড করা হয়েছিলো।” তিনি কোনো পরীক্ষারই আগের রাতে গ্রুপটিতে প্রশ্ন দেখেননি বলে জানান। শুধু পরদিন পরীক্ষা দিয়ে এসে গ্রুপে প্রশ্ন দেখতে পান।

টাইমস টুডে এর ভাইরাল ভিডিওতে যে পরীক্ষার্থীকে টাকা দিয়ে প্রশ্ন পাওয়ার দাবি করতে দেখা যায় তার পরিচয়ও খুঁজে বের করেছে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট। রাজধানীর একটি স্কুলের এই শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী রিউমর স্ক্যানারের কাছে দাবি করেন, তার বন্ধু কোনো প্রশ্ন পায়নি। ভিডিওতে সে মজা করে এমন বলেছিল।

Tarin Sultana Tori নামে ভেরিফাইড প্রোফাইলটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি এসএসসি শুরুর আগে ১৯ এপ্রিল থেকে সক্রিয় হয়। প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত নানা প্রলোভন এবং সময় টিভির সংবাদও শেয়ার করতে দেখা যায় প্রোফাইলটিতে। মোবাইল নাম্বারটি ট্রু কলারে যাচাই করলে তা ‘মানবসেবা ফাউন্ডেশন’ নাম উল্লেখ পাওয়া যায়। যাচাই করে দেখা যায়, এটির বিকাশ অ্যাকাউন্টধারীর নাম Md. Abdul Mannan। একই নাম্বার পূর্বে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক নানা প্রতারণায় ব্যবহার হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট।

অর্থাৎ, যে ভিডিওগুলো থেকে প্রশ্ন ফাঁসের দাবিটি ছড়িয়েছে সেই ভিডিওতে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তারা প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ পাননি।

টেলিগ্রাম গ্রুপটির সন্ধানে

সময় টিভির প্রশ্নফাঁসের দাবি সংক্রান্ত ভিডিও প্রচারের প্রেক্ষিতে চারদিকে আলোচনার পরপরই টেলিগ্রাম গ্রুপটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে গ্রুপটির লিংক (https://t.me/sscposno) নানা অনুসন্ধানের পর খুঁজে পায় রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট৷ এই গ্রুপটির প্রচারণা কীভাবে চালানো হয়েছে তা জানতে ফেসবুকে ইউজার নেমটি সার্চ করে ‘Ssc 2026 প্রশ্ন ফাঁস গ্রুপ’ নামের একটি গ্রুপে অন্তত ২১ এপ্রিল থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিয়মিত টেলিগ্রাম গ্রুপটির প্রচারণা চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমন পোস্টগুলো দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফেসবুকের গ্রুপটির এডমিন Farhan Bro নামের একটি প্রোফাইল।

মেসেজ এডিট দেখা যায়নি, সত্যিই প্রশ্ন ফাঁস?

সময় টিভির ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর এক পর্যায়ে সেদিনই ভিডিওটি সরিয়ে নেয় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে সময় জানায়, প্রশ্নফাঁস সম্পর্কিত প্রতিবেদনটিতে কিছু ত্রুটি ও ঘাটতি থাকায় তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তবে ভিডিওটি ফেসবুক ডাউনলোড হয়ে অনেক নেটিজেন পুনরায় প্রকাশ করায় এটি এখনও অনলাইনে রয়েছে। এ সংক্রান্ত অন্য ভিডিওগুলোও অনলাইনে রয়েছে। ভাইরাল বিষয়টি নিয়ে একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি ফেসবুক পোস্টে জানান, মূলত প্রতারকরা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর আগের রাতের আপলোড করা ভুয়া প্রশ্নের ছবি সরিয়ে মূল প্রশ্ন রিপ্লেস করে, যাতে পরবর্তীতে যারা প্রশ্ন কিনতে চাইবে, তাদেরকে দেখানো যায় যে তাদের ফাঁস করা প্রশ্ন সঠিক ছিল। তবে এক্ষেত্রে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন যে মেসেজ বা ছবি রিপ্লেস বা সম্পাদনা করা হলে মেসেজে Edited লেবেল দেখা যাওয়ার কথা।

কিন্তু গ্রুপের মেসেজগুলোয় এমন কোনো কিছু দেখা যায়নি৷ ফলে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি সত্য হিসেবে মেনে সরকারের সমালোচনা দেখা যায় অনলাইনে।

ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট টেলিগ্রাম গ্রুপটির এডমিন হিসেবে একটি বট আইডি থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করে। ‘জনাব আবদুল খালেক’ নামধারী এই বট আইডি থেকেই গ্রুপটিতে মেসেজ দেওয়া হতো।

আইডিটির প্রোফাইল ছবিটি রিভার্স সার্চ করে দেখা যায়, উক্ত ব্যক্তি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। গত মাসেই সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাকে।

বট আইডির বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট জানতে পারে, টেলিগ্রামে সাধারণ অ্যাকাউন্ট থেকে মেসেজ সম্পাদনা করলে edited দেখালেও বট আইডি থেকে দেওয়া মেসেজ সম্পাদনা করলে এমন লেবেল দেখায় না। এই সূত্রটিই খুলে দেয় পরবর্তী অনুসন্ধানের দ্বার। 

বট আইডি, নতুন গ্রুপ আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা

বট আইডি কীভাবে কাজ করে এবং প্রশ্নফাঁসের দাবি সংশ্লিষ্ট প্রতারণায় এ ধরনের আইডির কোনো ভূমিকা ছিল কি না তা যাচাই করতে রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিট একটি বট অ্যাকাউন্ট তৈরি করে। বটটির নাম দেওয়া হয় “মেসি রোনালদো ফ্যাক্টচেক সার্ভিস”। একই সঙ্গে টেলিগ্রামে “প্রশ্নফাঁস নাকি প্রতারণা” নামে একটি নতুন গ্রুপ খোলা হয়। প্রশ্নফাঁসের দাবির সঙ্গে যুক্ত টেলিগ্রাম গ্রুপটির কার্যপদ্ধতি অনুকরণ করে বট আইডি থেকে মেসেজ সম্পাদনা (Edit) করলে প্রকৃতপক্ষে কোনো ‘Edited’ লেবেল দৃশ্যমান হয় কি না, সেটি যাচাই করাই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বট আইডি থেকে পাঠানো কোনো বার্তা বা ছবি পরবর্তীতে সম্পাদনা করা হলেও সাধারণ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের মতো সেখানে ‘Edited’ লেবেল প্রদর্শিত হয় না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে পরীক্ষা চালানো হয় এবং প্রতিবারই অভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায়।

বট আইডিই মূল হোতা

যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রশ্ন জনসম্মুখে আসার আগেই বট অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রুপে কয়েকটি মেসেজ পাঠানো হয়। আজ দুপুর ১২টা ৪৯ মিনিটে লিওনেল মেসির তিনটি ছবি যুক্ত করে একটি মেসেজ দেওয়া হয়। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে নেইমার জুনিয়রের দুইটি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর একটি ছবি যুক্ত করে আরেকটি মেসেজ পাঠানো হয়। এরপর দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে শুধু রোনালদোর একটি ছবি দিয়ে একটি পৃথক মেসেজ দেওয়া হয়। এসব মেসেজ আর্কাইভ করে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে পরবর্তীতে কোনো পরিবর্তন করা হলে আগের অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফেসবুকে প্রশ্নপত্রের ছবি প্রকাশ হতে শুরু করলে, সেখান থেকে ঢাকাযশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নের ছবি সংগ্রহ করা হয়। এরপর ছবিগুলোতে রিউমর স্ক্যানারের লোগো যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পূর্বের ফুটবলারদের ছবি সংবলিত মেসেজগুলো একে একে সম্পাদনা করে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের প্রশ্নের ছবি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। মেসির ছবি থাকা মেসেজটিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্ন এবং নেইমার ও রোনালদোর ছবি থাকা অপর দুইটি মেসেজে যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নের ছবি সংযোজন করা হয়।

দেখা যায়, সম্পাদনার পরও কোনো বার্তায় ‘Edited’ লেবেল পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ সাধারণ ব্যবহারকারীর আইডি থেকে একইভাবে বার্তা সম্পাদনা করলে সেখানে ‘Edited’ লেবেল প্রদর্শিত হয়।

পুরো প্রক্রিয়াটি চলাকালে গ্রুপে পূর্ব থেকেই যুক্ত থাকা একজন স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর আইডি থেকে স্ক্রিনরেকর্ড ধারণ করা হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটবল তারকাদের ছবিযুক্ত মেসেজগুলো পরবর্তীতে সম্পাদনার মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবিতে পরিবর্তিত হচ্ছে, কিন্তু কোথাও Edited লেবেল প্রদর্শিত হচ্ছে না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার স্ক্রিনরেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি ওই টেলিগ্রাম গ্রুপেই সংরক্ষিত রয়েছে, যাতে আগ্রহী যে কেউ বিষয়টি নিজেই যাচাই করে নিতে পারেন।

রিউমর স্ক্যানার ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের সামগ্রিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দাবিটি ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা। টেলিগ্রাম বটের নির্দিষ্ট ফিচারের অপব্যবহার—বিশেষ করে মেসেজ সম্পাদনার পরও ‘Edited’ লেবেল দৃশ্যমান না থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা আগেই পোস্ট করা বার্তায় পরে প্রশ্নের ছবি যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে তারা এমন একটি ভুয়া প্রমাণ তৈরি করেছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে।

এই কৌশল কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। ফলে এটি শুধু আর্থিক প্রতারণাই নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

Share: