মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাজশাহীর কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু দাবিতে নেপালের ভিডিও প্রচার 

সম্প্রতি রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে এবং এখানে

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওর ঘটনা বাংলাদেশের নয় বরং নেপালের। এছাড়া, সম্প্রতি রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীকে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যার খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে দেশিয় একাধিক (, , , ) সংবাদ মাধ্যমে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রী কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে সংবাদ প্রচার হতে দেখা যায়। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ঐ শিক্ষার্থীর নাম জাহিদ হাসান অলি। শখের বসে বন্ধুদের সঙ্গে মদপান করে অ্যালকোহলে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়।

পরবর্তীতে প্রচারিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘ABPLIVE’ এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সঙ্গে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে।

হিন্দি ভাষায় প্রকাশিত উক্ত ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, এটি নেপালে সংঘটিত আন্দোলনের ভিডিও। আরো অনুসন্ধানে ফেসবুকে গত বছরের ০৯ সেপ্টেম্বর Gen Z Nepal নামের একটি পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির বর্ণনা অনুযায়ী, ০৮ সেপ্টেম্বর গুলি করার নির্দেশ দেওয়া ডিএসপির অবস্থা এটি। একই ঘটনার আরো একটি ভিডিও নেপালের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, কাঠমান্ডুর একজন ডিএসপি মারা গেছেন। তিনিই আন্দোলনে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আন্দোলনকারী যুবকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে ধাওয়া করে মারধর করে। পরবর্তীতে তার মৃত্যু নিশ্চিতের মাধ্যমে তারা প্রতিশোধ নেয়।

একই ভিডিও ভিন্ন দাবিতে গত বছরের নভেম্বরে প্রচারের প্রেক্ষিতে ফ্যাক্টচেক করে রিউমর স্ক্যানার। সে সময়

নেপালের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান নেপাল ফ্যাক্টচেকের এসিস্ট্যান্ট ফ্যাক্টচেক এডিটর চেতানা কুনওয়ার রিউমর স্ক্যানারকে জানিয়েছিলেন, “ভিডিওতে দেখানো পুলিশ অফিসারের পরিচয় জানা যায়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনজন পুলিশ অফিসারকে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।” তবে এই ব্যক্তি তাদের একজন কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

সুতরাং, মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাজশাহীর কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা দাবিতে নেপালের আন্দোলনের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: