ছাতা মাথায় এইচএসসি নয়, ভিডিওটি মাদরাসার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার 

দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবি ওঠে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন মহল থেকে। তবে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। তবে বৈরী পরিবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোথাও কোমরসমান পানি পেরিয়ে, কোথাও নৌকা ও ভ্যানে চড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।

এরই প্রেক্ষিতে ছাতা মাথায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন: যুগান্তর (ইউটিউব)।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাতা মাথায় এইচএসসি পরীক্ষা নয় বরং, ভাইরাল ভিডিওটি পটুয়াখালীর একটি মাদরাসার অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সঙ্গে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিওটি থেকে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার ঘটনার দৃশ্য। শ্রেণিকক্ষের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ছে, এমন পরিস্থিতিতেও ঝুঁকি নিয়ে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

আলোচিত এই ঘটনায় দেশিয় একাধিক (, , ) সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হতে দেখা যায়। প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণে একই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি ছাতা মাথায় এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কোনো দৃশ্যের নয়।

সুতরাং, পটুয়াখালীর একটি মাদরাসায় ছাতা মাথায় শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দেওয়ার সময়ে ধারণ করা ভিডিওকে এইচএসসি পরীক্ষার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: