গত ২০ এপ্রিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া এলাকার লৌহজং নদীর পার থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক নবজাতকের বস্তাবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সম্প্রতি, ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে একটি ছবি ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, টাঙ্গাইলের উক্ত নারী ও নবজাতককে হত্যার দায়ে আদালত ফাঁসির রায় দিয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নারী ও নবজাতককে হত্যার দায়ে আদালতের রায়ের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ঘটনার দৃশ্য নয়৷ প্রকৃতপক্ষে, ২০২২ সালে টাঙ্গাইলে এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের ছবিকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ঢাকা টাইমস২৪ এর ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ০৬ জুন ‘টাঙ্গাইলে শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ৩’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির সাদৃশ্য রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক শিশু শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ২০২২ সালের ০৬ জুন তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবিতে পুলিশ সদস্যদের সাথে গ্রেফতারকৃত তিন যুবককে দেখা যায়।
পরবর্তীতে, এ বিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমে (১, ২) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
তাছাড়া, গণমাধ্যমে সর্বশেষ ২৬ এপ্রিলের সংবাদ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লৌহজং নদীর তীর থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারী ও নবজাতকের মরদেহের ময়নাতদন্ত করে চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নারী ও শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সুতরাং, টাঙ্গাইলে নারী ও নবজাতক হত্যাকাণ্ডে আটক ও ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে দাবিতে ২০২২ সালের ভিন্ন ঘটনার ছবি প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা৷


